২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাঙ্গামাটির কাউখালীর বেতছড়ি এলাকার সামশুদ্দিন মোল্লার ছেলে ২৫ বছর বয়সী শহীদুল ইসলাম রনী সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। ১৬ মাস পর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে তার লাম উত্তোলন করে পিবিআই।
রনী মারা যাবার প্রায় ২ মাস পর তার বাবা সামশুদ্দিন মোল্লা বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামী করে কাউখালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মূলতঃ ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর সারা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রায় ২ মাস সারা দেশে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পুলিশের চেইন অব কমান্ড সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে। যার প্রভাব পড়ে কাউখালীতেও। যা স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগে।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসলে কাউখালী থানা এ মামলার তদন্ত শুরু করে। পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে মামলার ঘটনাস্থল চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার অধীনে নিশ্চিত হওয়ার পর কাউখালী থানা পুলিশ আদালতে এ মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে।
পরবর্তীতে সীমানা জটিলতা ও পুলিশের দাখিল করা রিপোর্টের প্রতি বাদীর নারাজির কারণে বিজ্ঞ আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি চট্টগ্রাম পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে ন্যাস্ত করেন। পিবিআই মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে মৃত দেহের কোন পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পায়নি।
ফলে পুনরায় মৃতদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য আদালত বরাবরে আবেদন করে পিবিআই চট্টগ্রাম। তাদের আবেদনের প্রক্ষিতে মাননীয় আদালত পিবিআইকে কবর থেকে রনির লাশ তুলে পোস্টমর্টেমের নির্দেশ দেন।
এরই প্রক্ষিতে আজকে কাউখালী উপজেলা কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে দীর্ঘ ১৬ মাস পর নিহত শহীদুল ইসলাম রনির লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। পিবিআই এর আয়ু এসআই জয়নাল আবেদীন, একজন এএসপি এবং কাউখালী উজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তথা নির্বাহী ম্যাজিট্রেট আওয়ালীন খালেকের উপস্থিতিতে এ মৃতদেহ উত্তোলন করে ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘ ১৬ মাস পর কবর থেকে ছেলের হাড়গোড় তুলে আনার চিত্র দেখে বার বার মূ্র্চা যাচ্ছিলেন সামশুদ্দিন মোল্লা। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের কান্নার শব্দে কেন্দ্রীয় কবরস্থান এলাকায় এক হৃদয়বিদারক অবস্থা সৃষ্টি হয়।


















