রাঙামাটিতে শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ মহোৎসব–২০২৬ ইং উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে মহানামযজ্ঞের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শীতবস্ত্র বিতরণ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় রাঙামাটি শহরের কাঠালতলী এলাকায় অবস্থিত সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামাতৃ মন্দির প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য দয়াল দাশ।
এসময় তিনি বক্তব্যে বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান মানুষের মাঝে নৈতিকতা, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। এমন আয়োজন সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম। তিনি বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দিরের সার্বিক খোঁজখবর ও সহযোগিতা করে আসছেন। মন্দিরের দ্বিতীয় তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, রাঙামাটিকে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ ও পর্যটক বান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পার্বত্য রাঙামাটি জেলায় বসবাসরত ১৩টি জাতিগোষ্ঠীর মানুষ যেন পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তোলে- এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি কাঠালতলী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামাতৃ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবু অজিত দাশ।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু অশোক ধর, পুরোহিত বাবু শংকর চক্রবর্তী, দুর্গা উৎসব পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও অগ্রবীণা সংঘের সহ-সভাপতি পুলক শীল, দুর্গা মাতৃ মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবলা সেনসহ মন্দির পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।
আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


















