রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্ণীতি ও টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়ার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্ণীতি দমন কমিশন -দুদক। ৩০ কোটি টাকার বেশি এসব প্রকল্পে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে টেন্ডার-সংক্রান্ত নথি, দরপত্রের কাগজপত্রসহ বিভিন্ন রেকর্ড তলব করেন দুদক কর্মকর্তারা। রেকর্ডপত্রে কোনো গরমিল বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী।
রাঙামাটিতে ওয়াশ ব্লকের তিন প্রকল্পে প্রায় ৯ কোটি টাকার কাজে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, একই টেন্ডার পুনঃদরপত্র আহ্বান করে ফের অনিয়মের মাধ্যমে কাজ দেওয়া এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার। একইসাথে প্রায় ২১ কোটি টাকার তিনটি পানির ট্যাংক নির্মাণ প্রকল্পে সর্বনিম্ন দরদাতার চেয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকা বেশি দর দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়াসহ একাধিক অনিয়ম-দুর্নীতি ও টেন্ডারবাণিজ্যের অভিযোগে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়েছে দুদক।
আজ (বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা চলে দুদকের এ অভিযান। এসময় অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে টেন্ডার-সংক্রান্ত নথি, দরপত্রের কাগজপত্রসহ বিভিন্ন রেকর্ড তলব করেন দুদক কর্মকর্তারা। তবে তলব করা সব নথি তাৎক্ষণিকভাবে দিতে পারেনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ। বেশির ভাগ রেকর্ডপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরে এসব নথি দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন দুদক কর্মকর্তারা।
দুদকের রাঙামাটি সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সরওয়ার হোসেন বলেন -‘অভিযোগের আওতায় থাকা ওয়াশ ব্লকের তিনটি গ্রুপে প্রায় তিন কোটি টাকা করে মোট নয় কোটি টাকার কাজ রয়েছে। যেখানে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে একই টেন্ডার পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রথমবারের দরদাতাদের কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই প্রক্রিয়াটি নতুন করে করা হয়। দ্বিতীয়বারের দরপত্রেও সর্বোচ্চ দরদাতাকেই কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবং এসব প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে’।
উপ-সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ বলেন-‘প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি পানির ট্যাংক নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব কাজে সর্বনিম্ন দরদাতার চেয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকা বেশি দর দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে।অভিযোগগুলোর নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখছে দুদক। রেকর্ডপত্রে কোনো গরমিল বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া। তিনি বলেন -ইজিপি টেন্ডারে, ওটিএম টেন্ডারে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দরদাত কে এবং কে রেসপন্সিভ কে ননরেসপন্সিভ এগুলো খুব লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার।এগুলোা রেকর্ডেড। যে কারণে এগুলো কোন কিছু (অনিয়ম) করার সুযোগ নাই। এটা একটা হয়তো ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিষয়টা (অভিযান) হচ্ছে। উনারা যে পেপারস চেয়েছেন তা অবজারভেশনে নিলেই আশা করছি সব রকম ব্যাখ্যা ওখানেই পেয়ে যাবেন’।
এর আগেও একাধিকবার কার্যালয়টিতে অভিযান চালায় দুদক। এবারের অভিযানে দুদক রাঙামাটি জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, উপ সহকারী পরিচালক সওয়ার হোসেন, এস আই সাজিবুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।


















