প্রায় ৭০ কি: মি: দূর্গম পাহাড়ি পথ পাড়িয়ে এসে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করছেন রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া হাই স্কুলের ১৮ জন শিক্ষার্থী। বিষয়টি শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও আসলে এই কঠিন কাজটি করছেন ঐ স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) হতে শুরু হওয়া এই জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় তাঁরা কাপ্তাই উপজেলা সদর বরইছড়ি কর্ণফুলী নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শান্তিময় তনচংগ্যা।
প্রধান শিক্ষক শান্তিময় তনচংগ্যা এই প্রতিবেদককে বলেন, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বিলাইছড়ি, রাজস্থলী এবং কাপ্তাই এই ৩ টি উপজেলার একটি মাত্র কেন্দ্র কাপ্তাই উপজেলার বড়ইছড়ি কর্ণফুলী নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয়। আমাদের স্কুল হতে এই কেন্দ্রের দুরত্ব প্রায় ৭০ কি: মি:। আমরা পরীক্ষার আগের দিন গতকাল শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ফারুয়া হতে পরীক্ষার্থী এবং শিক্ষক সহ একটা জীপ গাড়ি ভাড়া করে রাজস্থলী দূর্গম সীমান্ত সড়ক পাড়ি দিয়ে প্রায় ৫ ঘন্টা জার্নি করে কেন্দ্রে পৌছায়। বড়ইছড়ি কর্ণফুলী নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয় শ্রেণী কক্ষে তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আমরা আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খাবার রান্না করে ওদের খাওয়াচ্ছি।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুনীল তঞ্চঙ্গ্যা,অভি কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, রেশমি তঞ্চঙ্গ্যা,রুপা তঞ্চঙ্গ্যা এবং সুজন বালা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষক শান্তিময় তনচংগ্যা স্যার এর নেতৃত্বে আমরা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে এসে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছি।
বড়ইছড়ি কর্ণফুলী নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং কেন্দ্র সচিব জয়সীম বড়ুয়া বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিলাইছড়ি সদর সরকারি হাই স্কুল এবং রাজস্থলী উপজেলা সদর তাইতং পাড়া সরকারি হাই স্কুলের শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সাথে রবিবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোন উপজেলায় কয়টি কেন্দ্র থাকবে সেটা জেলা শিক্ষা অফিস হতে তালিকা করে পাঠানো হয়।
এই বিষয়ে রাঙামাটি শিক্ষা অফিসার সরিৎ কুমার চাকমার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন নাই।


















