কাপ্তাই লেক থেকে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ কচুরিপানায় রাঙামাটির কাপ্তাই জেটিঘাট সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। জেটিঘাটের বিভিন্ন অংশে কচুরিপানার স্তূপ জমে থাকায় ইঞ্জিনচালিত বোট ও অন্যান্য নৌযান চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা। এতে যাত্রী, বোটচালক ও মাছ ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কাপ্তাই অভ্যন্তরীণ নৌঘাট, বিএফডিসি প্লাটুন ঘাট ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কচুরিপানা জমে রয়েছে। এতে অনেক নৌযান ও মাছবাহী বোট ঘাটে স্বাভাবিকভাবে ভিড়তে পারছে না। একইভাবে ঘাট থেকে বোট ছাড়ার সময়ও চালকদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, কচুরিপানা পরিষ্কার করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও নতুন করে কচুরিপানা এসে জমা হচ্ছে।
বিলাইছড়িগামী যাত্রী মো. ওসমান, সুইনু মারমা ও আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে বোট ছাড়ার পর সামনের প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথ কচুরিপানায় ভরে গেছে। এই সামান্য পথ পাড়ি দিতেই কখনো কখনো প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে।”
বোটচালক মো. মাইন উদ্দীন, মো. জাকির হোসেন ও নুর নবী বলেন, “বর্তমানে কাপ্তাই জেটিঘাটে নৌযান চলাচলের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কচুরিপানা। স্রোতের কারণে প্রতিনিয়ত ঘাট এলাকায় কচুরিপানা জমছে। ফলে মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এতে প্রতিদিন বোটের পাখা (প্রপেলার) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অতিরিক্ত মেরামত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।”
কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন ও অর্থ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, “কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় সাধারণত কচুরিপানা জন্মায় না। বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও নানিয়ারচর এলাকার লেক থেকে স্রোতের টানে এসব কচুরিপানা ভেসে এসে জেটিঘাট এলাকায় জমা হয়। এতে মাছবাহী বোটগুলো ঘাটে আসতে এবং মাছ ওঠানামা করতে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”
তাঁরা আরও বলেন, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কর্ণফুলী নদীতে পানি প্রবাহিত হয়। এ সময় সৃষ্ট স্রোতের সঙ্গে উজান এলাকার কচুরিপানা ভেসে এসে কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় আটকে যায়। বিগত বছরগুলোতে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ বড় ট্রলারের মাধ্যমে কচুরিপানা পরিষ্কার করেছে। এবারও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে লেক থেকে কচুরিপানা অপসারণের দাবি জানান তাঁরা।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, “প্রতিবছর এ সময়ে কর্তৃপক্ষ কাপ্তাই লেক থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করে থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও উজান থেকে নতুন করে কচুরিপানা ভেসে আসায় স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী, মাছ ব্যবসায়ী ও নৌযানচালকদের দাবি, কাপ্তাই লেকভিত্তিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় নৌযান চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।


















