কক্সবাজারের রামু ট্র্যাজেডির দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সুবিচারের অপেক্ষায় রয়েছে রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায়। ২০১২ সালের এই দিনে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও হামলায় ধ্বংস হয়েছিল রামুর ইতিহাস-ঐতিহ্যের বহু নিদর্শন, ক্ষুণ্ণ হয়েছিল দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
ঐতিহাসিক এই ক্ষতকে স্মরণ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের খোঁজখবর নিতে আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) রামু সীমাবিহারের শ্রদ্ধেয় ভান্তে শীলুপ্রিয় মহাথেরোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সাক্ষাৎকালে এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সুজা উদ্দিন বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি কোনো ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি বা হয়রানি সমর্থন করে না। আমরা সম্প্রীতির এই বাংলাদেশে সকল ধর্ম, বর্ণ ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করছি। রামু সীমাবিহার কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি মানব সভ্যতার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং একটি অনন্য ‘স্কুল অফ থট’ (School of Thought)। এর সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।”
মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ ২০১২ সালের সেই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতি গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে পাশে থাকার জোরালো অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উক্ত সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), কক্সবাজার জেলার সদস্য সচিব ওমর ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান কাশেম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন সাইদ, কক্সবাজার জেলা জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক আসিফ বাপ্পি, সদস্য সচিব যায়েদ বিন আমান।
নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রতিহিংসা নয়, বরং রামুর চিরায়ত সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাই হোক আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ গড়ার মূল অঙ্গীকার।


















