রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালীতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাইখালীর নারানগিরি মুখ পাড়া থেকে শুরু হওয়া এ রথযাত্রা বিভিন্ন পাড়া ও এলাকা প্রদক্ষিণ করে রাত সাড়ে ৯টায় মাঝিপাড়ায় গিয়ে শেষ হয়।
রথযাত্রাটি হাপছড়ি পাড়া, জগনাছড়ি পাড়া, নারানগিরি মুখ, লেমুছড়ি পাড়া ও রাইখালী বাজার হয়ে মাঝিপাড়ায় পৌঁছায়। এতে কারিগর পাড়া, চিংম্রং, কুকিমারা ও বাঙ্গালহালিয়ার বিভিন্ন বয়সী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী যুবক-যুবতীরা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, নারানগিরি মুখ পাড়ার পেশাজীবী ও চাকরিজীবী যুবক-যুবতীদের অর্থায়নে এবং মংপ্রুসিং মারমার নির্দেশনায় রথটি নির্মাণ করা হয়। নারানগিরি মুখ পাড়ার যুবক-যুবতীরা টানা তিন মাস পরিশ্রম করে রথটি তৈরি করেন।
বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে রাজা বিম্বিসারের আমন্ত্রণে গৌতম বুদ্ধ বৈশালী থেকে রাজগৃহে গমন করেন। সে সময় রাজগৃহের মানুষ রোগব্যাধি ও অনাবৃষ্টির কারণে দুর্ভোগে পড়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে গৌতম বুদ্ধের আগমনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। বৌদ্ধ ঐতিহ্যে এই ঘটনার সঙ্গে আশ্বিনী পূর্ণিমার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। রথযাত্রার মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করা হয়।
স্থানীয় শিক্ষক মংহলাচিং মারমা বলেন, আশির দশক থেকে নারানগিরি মুখ পাড়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা নিয়মিত রথযাত্রা বা ‘রিছিমিং’ কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিনের এ আয়োজন এখন রাইখালীর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ রথযাত্রার মধ্য দিয়ে রাইখালীর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য প্রকাশ ঘটেছে।


















