রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় হেডম্যান ও কার্বারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মজুমদার, সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন এবং সাজেকে সাম্প্রতিক ঘটনার মধ্যস্থতাকারী কমিটির তিন সদস্য। এ ছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হেডম্যান ও কার্বারী, বাঘাইছড়ি উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সাজেকে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা, এর সূত্রপাত, আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সাজেকের পর্যটন খাত সচল রাখা, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য বজায় রাখা এবং পরিবহনসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
সভায় মধ্যস্থতাকারী কমিটির একজন সদস্য দাবি করেন, কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের নামে আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকেই সরকারি বেতনভুক্ত কার্বারী নন এবং তাঁদের সম্পর্কে তাঁরা অবগত নন। তাঁর অভিযোগ, একটি সশস্ত্র সংগঠন নিজেদের অবস্থান ও সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সভায় বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা বলেন, শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়কে কেন্দ্র করে সাজেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে সভায় সাজেক থেকে কোনো হেডম্যান বা কার্বারী উপস্থিত না থাকায় সংকটের স্থায়ী সমাধানে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ হিসেবে সোমবার দুপুর ২টায় রাঙামাটির ২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসন ও ২৯৯ নম্বর সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা সাজেকে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে জানানো হয় এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা থেকে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তারও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।


















