মঙ্গলবার , ১৮ এপ্রিল ২০২৩ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

পাহাড়ে পোস্টার ও ক্যালেন্ডার বিবর্তন

প্রতিবেদক
ঞ্যোহ্লা মং
এপ্রিল ১৮, ২০২৩ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

পাহাড়ে এবার বৈসুক, সাংগ্রাই বিজুতে কয়েকটি গ্রাম ঘুরে পাজন খাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার।

এক সময় পাহাড়ে গেলে ঘরের ভিতরে বা বাইরে বেড়ায় টানানো নানা দাবি-দাওয়া, সমস্যা-সম্ভাবনা, দুঃখ-কষ্টের পোস্টারের দেখা মিলত।

এখন সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে তেমন কোন পোস্টার চোখে পড়ে না।

সে থেকে বুঝতে পারি, পাহাড়ের মানুষগুলো আগের যে কোন সময়ের তুলনায় “সুখে-শান্তিতে” বসবাস করছেন।

যে কটি চোখে পড়েছে সবই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ব্যবহৃত পুরনো পোস্টার, নয়তো বাহারি পণ্যের বিজ্ঞাপন কিংবা তিন জেলার ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ে প্রচার-প্রচারণামূলক।

ছেলেবেলায় রঙ-বেরঙের বিজ্ঞাপনের পোস্টারগুলো বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন বাজার থেকে গ্রামে শুধু নয়, বেড়া ঘরের দেয়ালেও সাঁটায়।

বিশেষ করে মারমা পাড়ায় বেড়া ঘরগুলোতে পণ্য বিজ্ঞাপনের পোস্টারের অভাব নেই। লোকজন মারমাদের “শান্ত-শিষ্ট” বলে জানে। ফলে বেড়া ঘরে পণ্য বিজ্ঞাপনের পোস্টার লাগিয়ে যেতেও দ্বিতীয়বার ভাববার কোন দরকার পড়ে না।
বাড়ি-ঘরে বসার কক্ষে ধর্মীয় পোস্টার ছাড়া তেমন কিছু চোখে পড়েনি। আজকালকার ধর্মীয় কাজ-কর্ম করতেও ডিজিটাল ব্যানার টাঙিয়ে দান-দক্ষিণা করা হয়। দান-দক্ষিণা শেষে ডিজিটাল ব্যানারটি বসার ঘরে সুন্দর সাজিয়ে রাখার এক নতুন চল চলছে।
লক্ষ্য করেছেন কিনা জানি না, একসময় ধর্মীয় পোস্টার বা ক্যালেন্ডার বললে গৌতম বুদ্ধের ছবি ছাপানো হতো। পরে গৌতম বুদ্ধের পাশাপাশি বুদ্ধ পতাকা, পাহাড়ে সুন্দর সুন্দর জাদি নির্মিত হলে, জাদির ছবি ব্যবহার হতো। কাছাকাছি সময়ে পাহাড়ে দুই প্রভাবশালী ভিক্ষুর প্রভাব বাড়তে বাড়তে শুধু গুরুভান্তের ছবিই একসময় ক্যালেন্ডার বা পোস্টারে স্থান পেতে শুরু করে।

সেই ভিক্ষুদের ছবি সম্বলিত পোস্টার/ক্যালেন্ডারগুলো গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে টাঙিয়ে রাখতো। দুই প্রখ্যাত ভিক্ষুর জীবনাবসান হলে পোস্টার, ব্যানারে, ক্যালেন্ডারে তাদের ছবির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করেছে।
বড় দুই ভিক্ষুকে নিয়ে চর্চার দেখাদেখি এখন গ্রামের ভিক্ষুদের ছবি দিয়েও পোস্টার, ক্যালেন্ডার প্রকাশিত হচ্ছে। কোন পাহাড়ি বাড়িতে গেলে, সে পরিবার কোন ভান্তেকে অনুসরণ করেন, তার প্রমাণ পেতে ধর্মীয় পোস্টার, ব্যানার দেখে বুঝে নিতে পারি।

পাহাড়ে বুদ্ধ মূর্তি দান, সংঘ দান, চীবর দান কোন ব্যাপার নয়। বিহারে বিহারে বুদ্ধ মূর্তি দানের প্রভাবে বুদ্ধ মূর্তির সংখ্যা বাড়ছেতো বাড়ছেই। কেন এত বুদ্ধ মূর্তি দান করছি, কেন সংঘ দান করছি, ব্যাখ্যা একটাই মনের প্রশান্তি ও আগামীর সুখ স্বপ্নের প্রত্যাশা।
শুধু বুদ্ধ মূর্তি বাড়েনি, বিহার বেড়েছে, ভিক্ষু-শ্রমণের সংখ্যাও বাড়ছে। বুদ্ধ পূজার জন্য আয় থাকা দরকার, বিহার পরিচালনার জন্য নিয়মিত ফান্ড দরকার, ভিক্ষু-শ্রমণদের ভরণ-পোষণের জন্য নিয়মিত পিন্ডদান দরকার।
খ্যতিমান ভিক্ষুর জীবনাচরণ অনুসরণ করতে গ্রামের ভান্তেটিও এখন বদ্ধ পরিকর। বিহারে ফ্যান লাগবে, লাইট লাগবে, কারেন্ট চলে গেলে সোলার ব্যাকআপ লাগবে, ধর্মীয় সভা করার জন্য মাঠ লাগবে, সাউন্ড সিস্টেম লাগবে, যাতায়াতের জন্য গাড়ি লাগবে। সব লাগবে, লাগবে কম এমন বৌদ্ধ বিহার খুঁজে পেতে সময় নিয়ে গবেষণা করতে হবে।
কিছু কিছু বিহারকে দায়কদের কাছে গাড়ি ক্রয়ের টাকা তুলতে ফরম বিতরণ করতেও দেখা গেছে। গাড়ি পেলে কি করবেন? কোথায় যাবেন? গ্রামের, ভিক্ষুর কি উপকারে আসবে, আমরা কেউ প্রশ্ন করি না। আবার যাদের ইতিমধ্যে গাড়ির সুবিধাদি রয়েছে, তাদের গাড়ির চাকা ঘুরানোর জন্যও তেল সরবরাহ করতে হয় বলে শুনা যায়। গাড়িওয়ালা ভান্তেকে ফাং করলে গাড়ির তেলের খরচ দিতে হয়। বিহারে যে দান হয় সে দানের টাকায় কেন তেল কেনা হবে না, পাপের ভয়ে, সে প্রশ্ন আমরা কেউ করি না। গাড়ির তেল দিয়ে ভান্তেকে ভরণপোষণ করার জন্য পাহাড়ের কত পরিবার আছেন, আমাদের শ্রদ্ধেয় ভিক্ষুগণ ভেবেছেন কিনা তাও জানি না।
বিহার কেন্দ্রিক ধর্ম চর্চা আর বিহারের পরিবেশকে বিবেচনায় নিয়ে পাহাড়ের গ্রাম পরিবেশকে মিলিয়ে ফেলছি কিনা জানা নেই। তবে পাহাড়ের বাস্তবতা দেখার জন্য বাজার দিনে বাজার ঘুরে দেখা দরকার। সম্যক ধারণা লাভের জন্য সাধারণ মানুষের স্পর্শে আসা জরুরি। বেঁচে থাকার সংগ্রাম, খাদ্য ও পানির সংগ্রহে নারীদের দুর্দশার চিত্র দেখার সুযোগ মিললে, আরাম প্রীতি কমতে সাহায্য করতে পারে।
যতদিন ছিলাম শুধু উৎসব আর ধর্ম অনুষ্ঠান দেখেছি। বিহার থেকে দুর্বোধ্য ভাষায় ধর্ম দেশনা শুনেছি। যিনি দেশনা দিচ্ছেন আর যারা শুনছেন তাদের মাঝে আদৌ যোগাযোগ হয় কিনা জিজ্ঞেস করার চেষ্টা করিনি। তবে এইটুকু বুঝতে পারি, যে সমাজে একজন দায়ক মাতৃভাষা ছাড়া পাশের গ্রামের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করেন না, সে পালি ভাষা বুঝে কি করে? দেশনা শুনতে গেলেও বৈচিত্রতা পাই না। ফলে আমাকে খুব একটা আকৃষ্ট করে না। দান করো, নির্বাণে যাবে, দান করলে-ফল পাবে, অতীতে কারা কি দান করে, কি ফল লাভ করেছিলেন ইত্যাদি। এছাড়া বর্তমান বাস্তবতা নির্ভর কোন দেশনা শুনার কারো সুযোগ হয়েছে কিনা জানি না।
আবার অনেক শিক্ষিতরা, তাদের মা-বাবার চিকিৎসার বদলে মঙ্গল কামনায় ধর্ম-কর্ম আর দানই করছেন। ভান্তেরা কি আমাদের বয়স্ক অভিভাবকদের অসুস্থতা অনুধাবন করতে পারেন? তারা কি রোগ নিরাময় করতে পারেন?
দামি গাড়ি দান বা সুস্থ সবল, স্বাস্থ্যবান একজন ভান্তেকে কাঁধে চড়িয়ে ধর্মীয় স্লোগান দিতে দিতে তরুণদের ধর্মীয় চর্চার নতুন ধারা, কতদিন চলবে জানি না। পাহাড়ে এখন পানিয় জলের অভাব-অনটনের, ব্যাথা-কষ্টের কোন পোস্টার নেই। যেখানে যান, যেদিকে যান, ধর্মীয় পোস্টারে ছেয়ে গেছে।
ইতিহাসের পাতায় ‘অন্ধকার যুগ’ বলে পড়েছি। পাহাড়ে গেলে ঘরে ঘরে এলাকাভেদে ভান্তেদের পোস্টার, ভান্তেদের ছবিযুক্ত ক্যালেন্ডার হতে দেখে আমার ভাবনায় উঁকি ঝুঁকি মারে, আমরা কি সে যুগে প্রবেশ করেছি!
কিছু বন্ধুকে কোন ভান্তের অনুসারি হয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিতে গিয়ে ‘মহাপুরুষ’ আখ্যা দিতেও দেখা যায়। গৌতম বুদ্ধের পরে পাহাড়ে ‘দুই মহাপুরুষের’ কথা শুনতে শুনতে আমাদের কান, চোখগুলো অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে এলাকায় এলাকায় অনেক “মহাপুরুষের” উপস্থিতি ভেবে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হলেও এত এত মহাপুরুষের ভরণ-পোষণ, তাদের পিছনে মানুষের সময়, শ্রম, ব্যয় নিয়ে ভাবতে থাকলে জুমিয়াদের জুম ঠিক সময়ে বুনা হবে কিনা আমাকে ভাবায়। অল্প কিছু জায়গায় এত এত মহাপুরুষের জন্ম, আমরা ঠিক আছি কিনা, তাও চিন্তা করি। পৃথিবীর ইতিহাসে মহাপুরুষ হাতেগোনা কজন মাত্র জানি। আর আমাদের পাহাড়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে অনেক মহাপুরুষের উপস্থিতি আসলে ভাববার বিষয়।
পাহাড়ে সব কিছুতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্যণীয়। বিহারের নামগুলো আগে ছিল অমুক পাড়া বৌদ্ধ বিহার, এখন সে সব অচল ও অতি পুরনো। বর্তমানে এক একটি বিহারের নামের সাথে যেন বাধ্যমূলকভাবে থাকতে হবে ওয়ার্ল্ড, বিশ্ব, শান্তি ইত্যাদি। পাহাড়ে পোস্টারে, ক্যালেন্ডারগুলোতেও নানা পরিবর্তন এসেছে। নিজ এলাকার, পাড়ার ভান্তেই সেরা ভান্তে কিংবা বিহারের ভান্তেকে পোস্টারে, ক্যালেন্ডারে স্থান দিয়ে ধর্ম খোঁজার চেষ্টাও চলে। মানুষ এখন কি করলে ধর্ম হবে, খুঁজতে গিয়ে সব করে চলেছেন। শিক্ষিত আর পয়সাওয়ালাদের ধর্ম খোঁজার তালে, গ্রামীন সাধারণ মানুষগুলোকে আমরা টালমাটাল করে তুলছি কিনা দেখার কেউ কি আছি?

কলাম লেখক
ই-মেইল: nyohlamong2@gmail.com

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

জুরাছড়িতে শেখ রাসেল দিবস পালিত

খাগড়াছড়ি বিএনপির বিবৃতি, ভুয়া ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ

যেন এক পরিপূর্ণ খামার বাড়ি বাঘাইছড়ির ইওএনও’র বাংলো

কাপ্তাই বিএফআইডিসিতে ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (সঃ) মাহফিল অনুষ্ঠিত 

জীবতলী ১০ আর.ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে দু:স্থ ও গরীবদের মাঝে ঈদ সহায়তা প্রদান

‘রাঙামাটির সন্তানেরাও বহির্বিশ্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দক্ষতা দেখাবে’

কাউখালীতে বিএনপির লিফলেট বিতরণ

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে রাজস্থলী ও বাঙ্গালহালিয়াতে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৫ বর্ষপূর্তি উদযাপন

দীঘিনালায় কৃষি ব্যাংকে ঋণ কর্মসূচী উদ্বোধন 

কাপ্তাইয়ে নারানগিরিতে বিজিবির মৌজা ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

%d bloggers like this: