উৎসবমুখর পরিবেশে মহালছড়ি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো মহালছড়ি উপজেলা প্রশাসন গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫-এর রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচ। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে নির্ধারিত সময় শেষে ২-২ গোলে সমতা বিরাজ করলে ট্রাইব্রেকারে জয় ছিনিয়ে নেয় মুবাছড়ি ইউনিয়ন ফুটবল দল।
টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল রাউন্ডে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে দুটি দল। মুবাছড়ি ইউনিয়ন ২-১ গোলে হারায় মাইসছড়ি ইউনিয়নকে। অন্যদিকে মহালছড়ি সদর ইউনিয়ন ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নকে। এই জয়ের মাধ্যমে ফাইনালে মুখোমুখি হয় মুবাছড়ি ইউনিয়ন ও মহালছড়ি সদর ইউনিয়ন।
শুক্রবার বিকেল থেকেই মহালছড়ি স্টেডিয়াম জুড়ে জমে ওঠে দর্শকের ভিড়। শুরু থেকে দুই দলই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে খেলাকে রোমাঞ্চকর করে তোলে। খেলায় দুই দল ২-২ গোলে সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে জয় পায় মুবাছড়ি ইউনিয়ন ফুটবল দল।
তবে ম্যাচে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় রেফারির কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হয় দুই দলের দুইজন খেলোয়াড়কে, লাল কার্ড দেখে মাঠ ত্যাগ করেন। ফাইনালের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠে উত্তেজনার সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই সমাপ্ত হয় ম্যাচ।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু রায়হান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ শাহাদাত হোসেন, মহালছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং মহালছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সানোয়ার হোসেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক ও অনৈতিক কাজ থেকে দূরে রাখে। এ ধরনের আয়োজন যুবসমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
পুরো টুর্নামেন্টে স্থানীয় দর্শকদের উৎসাহ, খেলোয়াড়দের আন্তরিকতা এবং আয়োজকদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ম্যাচকে করেছে আরও প্রাণবন্ত। দর্শকরা বলেন, এমন আয়োজন নিয়মিত হলে এলাকার তরুণ প্রতিভারা দেশের বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ পাবে।
মহালছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট আবারও প্রমাণ করেছে, খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলারও অন্যতম মাধ্যম। মুবাছড়ি ইউনিয়নের এই জয়ে পুরো মহালছড়ি জুড়ে বইছে উদযাপনের আমেজ।