রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মুসলিম ব্লক এলাকায় পাহাড় কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জাকারিয়া।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লংগদুর ওই এলাকায় নুর হোসেন নামে একজন প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ্য পাহাড় থেকে মাটি কাটছিলেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল গিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে পাহাড়ের মালিক নুর হোসেন বলেন, বিক্রির জন্য নয়- তিনি তার পৈত্রিক জায়গায় বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কাটছেন। তার পুরনো বাড়ির চারপাশে মাটি ধসে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে হাঁটাচলায় সমস্যা হচ্ছে এবং বাড়িটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। তাই মাটি কেটে সমান করে নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে হবে। তবে প্রশাসনের নির্দেশে এখন মাটি কাটা বন্ধ রেখেছেন বলে জানান তিনি।
জানা যায়, ওই এলাকার বাসিন্দা নুর হোসেন প্রকাশ্য তার বাড়ির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছেন। পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রাক্টর ও শ্রমিক। ইতোমধ্যে পাহাড়ের বড় একটি অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে সেখানে তৈরি হয়েছে ভূমিধসের ঝুঁকি। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা সামনে রেখে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এতে মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন পাহাড়ের ওপর আশপাশে বসবাসরত পরিবারের লোকজন। তারা যে কোনো সময় তাদের বসতঘর মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এভাবে প্রকাশ্য পাহাড় কাটা হলেও প্রতিকারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। হুমকিতে আশপাশের বসতবাড়ি। দিনের বেলাতেই প্রকাশ্য পাহাড় থেকে কাটা হচ্ছে মাটি। ফলে বিনষ্ট হতে চলেছে পরিবেশের ভারসাম্য। বাড়ছে ভূমিধসের ঝুঁকি। তাই অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা। স্থানীয়দের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল গিয়ে পাহাড় কাটার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন থানার ওসি।
এ ব্যাপারে জানতে শুক্রবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে লংগদু থানার ওসি মো. জাকারিয়া বলেন, ওই এলাকার বাসিন্দা নুর হোসেন তার পৈত্রিক ভূমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য পাহাড়ের মাটি কাটছিলেন। এতে আশপাশের লোকজনসহ পরিবেশের ওপর হুমকি দেখা দিয়েছে বলে এমন তথ্য স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল গিয়ে নুর হোসেনকে আপাতত মাটি কাটার কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মাটি কাটার জন্য তিনি প্রশাসনের কোনো রকম অনুমতি নেননি। তাই তাকে বলে দেওয়া হয়েছে, ইউএনও ফিরলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় অনুমতি নিয়ে বাড়ি নির্মাণকাজ করার জন্য।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ফোনে যোগাযোগ করলে লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। তবে বিষয়টি জেনে থানার ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

















