পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর নিয়োগে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিতসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকার আয়োজন রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীন বিভিন্ন সরকারি পদে নিয়োগে ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটা অনুসরণ করা হচ্ছে যা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তাদের দাবি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯ এ নির্দিষ্ট কোনো কোটা নয় বরং সমযোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় এবং ২৩ জুলাই ২০২৪ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর নিয়োগেও দেশের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো ৯৩ শতাংশ মেধা এবং ৭ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ বাস্তবায়ন, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, উপজেলাভিত্তিক কোটার বিন্যাস প্রকাশ এবং চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ।
নেতারা বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যার পরেও যদি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব বা বৈষম্যমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করে, তাহলে পাহাড়ের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জনি, সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রুবেল হোসেন, মো. ইব্রাহীম রুবেল, মো. ফজলে রাব্বি, মো. শরিফ, মো. আশরাফুলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।


















