বৃহস্পতিবার , ১ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. চট্টগ্রাম
  6. আইন ও অপরাধ
  7. রাজনীতি
  8. পর্যটন
  9. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  10. এক্সক্লুসিভ
  11. অর্থনীতি
  12. এনজিও
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. উন্নয়ন খবর
  15. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  16. খোলা জানালা
  17. কৃষি ও প্রকৃতি
  18. প্রযুক্তি বিশ্ব
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. লাইফ স্টাইল
  21. সাহিত্য
  22. অন্যান্য

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ফেরাতে ৮৭০ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রতিবেদক
ঝুলন দত্ত, কাপ্তাই, রাঙামাটি
অক্টোবর ১, ২০২৬ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে ৮৬৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই ইউনিটে হারিয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট সক্ষমতা পুনরুদ্ধার হবে। এতে দুটি ইউনিটের পূর্ণ ১০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৬৫৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বৈদেশিক ঋণ, ২০০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সরকারি তহবিল এবং ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিপিডিবির নিজস্ব অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) নীতিগত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট ১৯৮৮ সালে স্থাপন করা হয় যার প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট। তবে দীর্ঘদিন অপারেশনের ফলে বিভিন্ন যান্ত্রিক ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে বর্তমানে প্রতিটি ইউনিট থেকে ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ইউনিট দুটি সর্বশেষ সংস্কার করা হয়েছিল ২০১০ সালের জুনে এবং ২০১১ সালের এপ্রিলে। প্রকৌশলীদের তথ্যমতে সাধারণত ১০ বছর পর প্রতিটি ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্রয়োজন হয় কিন্তু আর্থিক ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, এই সংস্কার প্রকল্পের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয় ২০১৮ সালে। কিন্ত ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পটি সাত বছরের বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। এ পর্যন্ত তিনবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও সেগুলো বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়ে যায়। ইউনিট দুটি তোশিবার প্রযুক্তিতে নির্মিত হওয়ায় তোশিবার প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানি দরপত্রের শর্ত পূরণ করতে পারেনি। স্থানীয় ঠিকাদারদের আপত্তির কারণে সেই দরপত্র প্রক্রিয়াও বাতিল হয়ে যায়। এর কারণে ইউনিট দুটির সংস্কার কাজ আটকে পড়ে। জরুরি ওভারহল ছাড়াই ইউনিটগুলোকে অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে চালু রাখতে হয়েছে এতদিন।

বিপিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউনিট দুটির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এই প্রকল্পের আওতায় সংস্কার ও পরিবর্তন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে, রোটর রিম সাপোর্ট, স্টেটর কয়েল, রোটর পোল, ইনসুলেশন, টারবাইনের রানার, শ্যাফট সিল ও বিয়ারিং। একই সঙ্গে গভর্নর, অটোমেশন ও কন্ট্রোল সিস্টেম এবং অন্যান্য অক্সিলিয়ারি সিস্টেমেরও উন্নয়ন করা হবে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪ ও ৫ নং ইউনিটের পুনর্বাসনের জন্য সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান আরও বলেন, সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে ইউনিট দুটির মোট ১০০ মেগাওয়াট পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে কেন্দ্রটির বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির ঝুঁকি কমবে এবং জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিৎ করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, প্রচলিত অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অত্যন্ত কম (৪০ থেকে ৫০ পয়সা পার ইউনিট) এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থায়িত্বও অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় অনেক বেশি৷ তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিতে প্রকল্প যৌক্তিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীগণ।

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: