পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপি ও রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। শনিবার বিকেলে রাঙ্গামাটিতে কয়েকটি গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্য নিজেদের করণীয় এবং সরকারের উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন তারা।
ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপি বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এটার ইস্যু যে শুধু ট্যুরিজম তা না। এটা আমার কাছে মনে হচ্ছে আমাদের পাহাড়ের এলাকার যেসকল ছাত্র/ছাত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লেখা পড়া করে তারা এই মাসে ছুটি নিয়ে আসে। এসময় ইয়াং জেনারেশনের একটা গেদারিং থাকে। এটাকে আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে কেউ কেউ কাজে লাগাতে চায়। তাদের কারো মধ্যে পজেটিভ নেগেটিভ উদ্দেশ্য আছে,এতে কেউ পজেটিভ আবার কেউ নেগেটিভ উদ্দেশ্য সরকারকে এবং এলাকার পরিস্থিতিকে প্রেসারে রাখতে এসব ইয়াং জেনারেশনদের কাজে লাগায়।
তিনি আরো বলেন,পার্বত্য এলাকায় কোন শিল্প কলকারখানা নেই। একমাত্র আয়ের উৎস হলো ট্যুরিজম। ট্যুরিজমের সাথে এখানের সকল সম্প্রদায়ের লোকজন জড়িত আছে। এইটা আক্রান্ত হলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার প্রভাব পড়ে এবং এলাকার ক্ষতি হয়। তিনি বলেন এতে আঞ্চলিক দলগুলোর বুঝা উচিত এতে আমাদের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সরকারের পক্ষ থেকে আমরা চেষ্টা করছি আলোচনার মাধ্যমে এটা সমাধানের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তিনি জানান যেসকল সংগঠন ও নন পলিটিক্যাল বা সংগঠনের ব্যানারে এসব আন্দোলন করছে তারাও ইচ্ছা পোষন করেছেন আলোচনার টেবিলে বসার জন্য। তিনি জানান যথাযথ প্রশাসনিক লেভেলে আলোচনা করে এটা সমাধানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।
সাজেককে কেন্দ্র করে করে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে চলমান অবরোধ কর্মসুচিকে ‘বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়’ -বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। তিনি বলেন,পার্বত্য এলাকার যেকোন বিষয়- ঘটনাকে কেয়ারফুলি দেখতে হবে। এলার্ট থাকতে হবে। এ ঘটনাগুলোকে কোনভাবে আমরা অবহেলা করতে পারি না। আমি মনে করি এ ঘটনা সরকারের অফিসিয়ালি নেয়া দরকার।
দীপেন দেওয়ান বলেন, আমাদের চিন্তা করতে হবে শান্তি এবং উন্নয়ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে আন্তরিক। আমরা সকলের সাথে আলোচনা করে সমাধান করবো। দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন,আগামী ৫ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভায় সাজেকসহ পার্বত্য অঞ্চলের অস্থিরতা নিরসনের বিষয় তুলে ধরবো। সব বিষয়ে এখানে আলোচনা হবে।
এদিকে শনিবার ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা এক বিবৃতিতে বলেন, বলপ্রয়োগ করে সাজেক তথা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। উষাতন চাকমা সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে শান্তিপূর্ণ আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন


















