রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন দুই সন্তানের জননী অসহায় কাজল বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন আনসার-ভিডিপির কর্মকর্তা রোকেয়া পারভীন। ১০ বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছিন্ন থাকার পর দুই ছেলেকে নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করে আসছেন কাজল বেগম। বৃষ্টি হলেই ঘরে থাকতে না পেরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় তাঁকে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে এক বান্ডিল ঢেউটিন ও পাঁচটি টুলি দিয়ে তাঁর ঘর মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন রোকেয়া পারভীন।
সোমবার (২ নভেম্বর) কাপ্তাইয়ের বরইছড়ি সরকারি কলেজ এলাকায় কাজল বেগমের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
কাজল বেগমের স্বামী আব্দুল মমিনের সঙ্গে ১০ বছর ধরে বিচ্ছেদ রয়েছে। তাঁর দুই ছেলের বয়স ১৬ ও ১০ বছর। দুই সন্তানকে নিয়ে বরইছড়ি কলেজ এলাকায় একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন তিনি। ঘরের অবস্থা এতটাই নাজুক যে বৃষ্টি হলেই অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। বিভিন্ন মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েও তেমন কোনো সহায়তা পাননি তিনি।
সম্প্রতি পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে কলেজ এলাকার কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানকার বাসিন্দারা বরইছড়ি সরকারি কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। ওই আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে কাজল বেগমের সঙ্গে কথা হয় আনসার-ভিডিপির কর্মকর্তা রোকেয়া পারভীনের। এ সময় নিজের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন কাজল বেগম। তাঁর কষ্টের কথা শুনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন রোকেয়া পারভীন।
সেই আশ্বাসের ধারাবাহিকতায় সোমবার ব্যক্তিগত অর্থায়নে কাজল বেগমের হাতে এক বান্ডিল ঢেউটিন ও পাঁচটি টুলি তুলে দেন তিনি। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ অসহায় পরিবারটির ঘর মেরামতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোকেয়া পারভীন বলেন, আনসার-ভিডিপি বাহিনীর মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম রেঞ্জের রেঞ্জ কমান্ডার এবং রাঙামাটি জেলা কমান্ড্যান্টের দিকনির্দেশনা ও কাজের অনুপ্রেরণা তাঁকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করে। মানুষের দুঃসময়ে সহযোগিতা করতে পারা তাঁর কাছে আনন্দের বিষয়।
তাঁর এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, অসহায় মানুষের দুর্দিনে এ ধরনের সহযোগিতা মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাইয়ের সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রশিক্ষক রানা ভট্টাচার্য, ফাতেমা বেগম, পিসি আমজাদ, এপিসি মোসলিমসহ ভাতাভুক্ত কমান্ডাররা।


















