রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ কাজল (৫৫), পিতা মোঃ কবির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কাপ্তাই থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কাপ্তাই থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এলাকাবাসী র সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ কাজলের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিবাহসূত্রে কাপ্তাই কর্ণফুলী সরকারি কলেজ এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। তার প্রথম সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় ৯ বছর আগে প্রথম স্ত্রী শেফালি বেগমকে তালাক দিয়ে তিনি মর্জিনা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারেও তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৯ বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিয়ে করেন প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে এবার একই ধরনের গুরুতর অভিযোগে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল জানান, গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ কাজল কাপ্তাই থানায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।
শিশুটির পিতা বলেন, “আমার ৮ বছরের অবুঝ শিশুর সঙ্গে এমন জঘন্য ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই। অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন নির্মম ঘটনার শিকার হতে না হয়।
এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। এমন অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা জোরদার এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, প্রায় ৯ বছর আগে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মোহাম্মদ কাজল। বর্তমানে ৮ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
শিশুটির সুরক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা। কাপ্তাই থানা এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান পুলিশ।


















