বৃহস্পতিবার , ১৪ এপ্রিল ২০২২ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় / বিদ্যুতের আশ্বাসে খুঁটি দেখিয়েই আট বছর পার

প্রতিবেদক
মোঃ আক্তার হোসেন, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি
এপ্রিল ১৪, ২০২২ ১:১২ অপরাহ্ণ

 

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউপির হাজাছড়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকায় ৮ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে বিদুৎ সংযোগ বিহীন ৬৪ টি খুঁটি। এদিকে (একশো-কেভি ভোল্টেজ) বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারে মরিচা ধরে হেমাটাইট লাল রংয়ের আকার ধারন করেছে।

পাশাপাশি ট্রান্সফরমার ইন্সুলেটিং অয়েল গলে পড়ছে মাটিতে। ঐ এলাকার বিদুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত বাঙ্গালী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (চাকমা)সহ দুই সম্প্রদায়ের অন্তত আড়াইশত পরিবার। বিদ্যুৎ সংযোগ রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকল্প পরিচালক(পিডি)র ড্রাইভার সেন্টুর সাথে চুক্তি করা হয় ৫ লাখ টাকায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মেরুং ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড হাঁজাছড়ার দক্ষিন পাড়ায় যাওয়ার পথে মেরুং বাজার থেকে মাইনী নদী পার হলেই চোখ পড়বে লম্বা লম্বা বিদুৎ খুঁটির দিকে। একের পর এক সাড়ি-সাড়ি দাড়িয়ে আছে সিমেন্টের বড় বড় ১৪ টি খুঁটি। একটু সামনে গেলেই দেখা মিলবে বিদুৎ ট্রান্সফরমার মরিচা ধরে হেমাটাইট লাল বর্ণের আকাড় ধারন করেছে। ট্রান্সফরমার থেকে ইন্সুলেটিং অয়েল গলে পড়ছে মাটিতে। অন্যদিকে বিদুৎ সংযোগ তার ছিরে পড়ে আছে রাস্তায়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার মেরুং বাজারের নুর-আলী ও বেতছড়ি প্রশ্চিম পাড়ার হেকমত আলী হাজাছড়ার দক্ষিণ এলাকায় ৬৫ টি বিদুৎ খুঁটি এবং একটি (একশো-কেভি ভোল্টেজ) বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার দিবেন মর্মে ৫ লাখ টাকায় চুক্তি বদ্ধ হন তারা। দুুই ধাপে বিদুৎতের ৬৪ টি খুঁটি এবং একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার পৌঁছে দেন। তবে চুক্তি অনুযায়ী ১ টি খুঁটি কম দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ অর্থ আদান-প্রদান চুক্তি হয় চারশত চল্লিশ ভোল্টেজ পাওয়ারের তার দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন, এসময় দেখা যায় ৫ টি খুঁটিতে চারশত চল্লিশ ভোল্টেজ পাওয়ারের তার আর বাকি গুলোতে দুইশো বিশ ভোল্টেজের তার লাগিয়ে রাখা হয়েছে। গেল ৮ বছরে বিদুৎতের মুখ দেখেনি হাজাছড়ার দক্ষিন এলাকার স্থানীয় বাসীন্দারা।

হাঁজাছড়া দক্ষিণ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল চাকমা(৩৬) অভিযোগ করে বলেন, এমনি-এমনিতো আর বিদুৎ চাইনি। বিদুৎ বাবদ ৫ লাখ টাকা দিতে হইছে সরকারকে, এই এলাকার মানুষের। মেরুং বাজারের নুর-আলী ও বেতছড়ির হেকমতসহ, হাজাছড়ায় দক্ষিণ এলাকায় এসে বিদুৎ সংযোগ বাবদ এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙ্গালী দুই সম্প্রদায়ের থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে চুক্তি করে বলে জানা যায়। অথচ দীর্ঘ ৮ বছর হলেও হাজাছড়ায় বিদুৎ সংযোগ দেয়নি তারা।

তিনি আরো বলেন পাহাড়ি এই এলাকায় বিদুৎ না থাকায় পাহাড়ে পানির কষ্ট ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, আমাদের সন্তানদের বর্ষা মৌসুমে লেখাপড়া ব্যহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে খামার করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ বন্ধ রয়েছে। সরকারের উন্নয়নের সাথে এগিয়ে যেতে পারছে না হাঁজাছড়া দক্ষিণ এলাকার গ্রামবাসী।

একই এলাকার বাসিন্দা ভোলা চাকমা(৫০) অভিযোগ করে বলেন, আমরা এলাকাবাসী কাউকে তো চিনি না। মেরুং বাজারের নুর-আলী ও বেতছড়ির হেকমত কে ৫ লাখ টাকা দিয়েছি বিদুৎ সংযোগ দিবে বলেছেন। একই এলাকার ছোবহান(৫৫) বলেন, ২০১৪ সালে বিদ্যুৎ খুঁটি দাড়িয়ে আছে অথচ আজ থেকে ৮ বছর আগে খুঁটি গুলো মাটিতে লাগানো হয়েছে, বিদ্যুৎ আলো থেকে বঞ্চিত গ্রামবাসী।

হাঁজাছড়া দক্ষিণ এলাকার সাবেক পরপর দুইবার নির্বাচিত মেরুং ইউপি ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো: দুলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য অনুযায়ী শতভাগ বিদুৎ মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কথা তিনি বলেছেন। ব্যস্তবে তার কতটুকু যুক্তিসম্মত। অথচ হাঁজাছড়া এলাকায় ২০১৪ সালে বিদুৎ খুঁটি মাটিতে গাড়া হলেও দীর্ঘ ৮ বছরেও বিদ্যুতের দেখা মিলে নাই। দরিদ্র্য এলাকার মানুষের অগাধ বিশ্বাস নিয়ে বিদ্যুৎতের কথা বলে একটি চক্র হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।

অভিযোগ উঠা নুর-আলীর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, আমি বেতছড়ির হেকমত সহ হাজাছড়া এলাকার তিন থেকে চার জন গিয়ে রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকল্প পরিচালক(পিডি)র ড্রাইভার সেন্টুর কাছে টাকা দেই।

এদিকে অভিযোগ উঠা বেতছড়ি এলাকার হেকমতের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, টাকা তুলার বিষয়টি আমি জানিনা, ঐ এলাকার লোকজন আমাকে বিদুৎ সংযোগ এর বিষয়ে কথা বলতে চাইলে এবং জানতে চাইলে আমি তাদের রাঙামাটি বনরুপা অফিসের প্রকল্প পরিচালক(পিডি)র ড্রাইভার সেন্টুর সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের বাহিরে পরিচয় করিয়ে দিই। টাকার লেনদেন বিষটি তাদের ব্যাক্তিগত আর টাকা লেনদেন বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

টাকা লেনদেনের বিষয়ে রাঙামাটি বনরুপা অফিসের প্রকল্প পরিচালক(পিডি)র ড্রাইভার সেন্টুকে একাধিক বার মুঠোফোন কল করে এবং মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে হাঁজাছড়া দক্ষিণ এলাকার বিদ্যুৎতের ঠিকাদার প্রদীপ চাকমার সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, দীঘিনালা বিদুৎ উপকেন্দ্র কাজ বুঝিয়ে দিবো খুব তাড়াতাড়ি। কাজের এতো ধীরগতির কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, কাজটি মূলত দু’জন ঠিকাদার দ্বারা সম্পূর্ণ করা হয়েছে, আমি মাত্র ২৫ টি খুঁটির কাজ করেছি।

দীঘিনালা আবাসিক বিদুৎ বিভাগের উপ-প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলামের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, হাজাছড়া লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ আমরা দিতে চাচ্ছি। তবে হাজাছড়া বিদ্যুৎ সংযোগের ঠিকাদার এখনো আমাদের কাছে কাজ বুঝিয়ে দেয়নি। আমাদের কাজ বুঝিয়ে দিলে, আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে দিবো।

 

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

কন্যাশিশু দিবসে কাপ্তাই ও রাজস্থলীতে নানা আয়োজন 

বাঘাইছড়িতে ৮০ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঘর হস্তান্তর

কাপ্তাই পুজা মন্ডপ পরিদর্শনে উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা

মানিকছড়িতে মৎস্য পোনা অবমুক্ত ও পুরস্কার বিতরণ

রাজস্হলীতে জাতীয় যুব দিবস পালিত

কল্পনা অপহরণ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে নারাজির অধিকতর শুনানি আগামী ২২ অক্টোবর

কাপ্তাইয়ে ট্রাফিক পুলিশের আয়োজনে পরিবহন চালক ও সহকারীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

খাগড়াছড়িতে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা

দীঘিনালার বাবুছড়ায় শান্তিপূর্ন ভোট গ্রহণ

রাবিপ্রবি’র অসুস্থ শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালো রাঙামাটি জেলা পুলিশ ও বিকাশ লিমিটেড

%d bloggers like this: