মঙ্গলবার , ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

দুর্গম রাজস্থলী থেকে রুপালি গৌরব—খই খই সাই এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে

প্রতিবেদক
উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী, রাঙামাটি
নভেম্বর ২৫, ২০২৫ ১০:১৯ অপরাহ্ণ

রাঙামাটির রাজস্থলীর এক সাধারণ কৃষক পরিবারের মেয়েটি খই খই সাই মারমা আজ বাংলাদেশের টেবিল টেনিস ইতিহাসে নতুন আলো ছড়িয়েছেন। পাহাড়ের বুকে জন্ম নেওয়া এই মেয়েটির গল্প যেন স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সাফল্যের এক অসাধারণ যাত্রাপথ। রাজস্থলীর দুর্গম চুশাক পাড়ার ছোট্ট কোয়ান্টাম স্কুলের হলরুমে প্রথম র‍্যাকেট ছোঁয়া ছোট্ট মেয়েটি আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে তুলেছেন।ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে রুপা জিতে তিনি প্রমাণ করেছেন—দারিদ্র্য, সীমিত সুযোগ আর কঠিন পরিবেশ কখনোই বড় স্বপ্নকে থামাতে পারে না।

কিন্তু তাঁর সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে আরও কঠিন বাস্তবতা—চরম রাস্তার দুর্ভোগ। চুশাক পাড়া থেকে রাজস্থলী সদর কিংবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যেতে তাঁর প্রতিদিনই পাড়ি দিতে হয়েছে ভাঙাচোরা, পাথুরে পথ, বর্ষায় হাঁটু-ডোবা কাদা, আর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা। অসুস্থকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো রাস্তা নেই, কারো প্রয়োজনে মাইলের পর মাইল হেঁটে নামতে হয়। এই দুর্ভোগই ছিল খই খইয়ের প্রতিদিনের বাস্তবতা। কিন্তু তিনি থামেননি।

চুশাক পাড়ার বাসীর বলেন— “আমরা চোখের সামনে দেখেছি, মেয়েটা কীভাবে এই রাস্তায় হেঁটে হেঁটে স্কুলে গেছে, আবার প্রশিক্ষণও নিয়েছে। বর্ষায় তো রাস্তায় কাদা কোমর পর্যন্ত উঠে যায়। তবুও খই খই একদিনও হাল ছাড়েনি। আজ আমাদের পাড়ার নাম সে বিশ্বে তুলে ধরেছে— এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

স্থানীয় যুবক উথোয়াইহ্লা মারমা বলেন— “সরকার যদি একটু এই রাস্তাটা করে দিত, খই খইয়ের মতো আরও ছোটরা উঠে আসতে পারত। খই খই আমাদের আশা, আমাদের অনুপ্রেরণা।”

খই খইয়ের মা মোহ্লাচিং মারমা গর্ব ও কান্নাজড়িত স্বরে বলেন, “আমরা দরিদ্র পরিবার। ঠিকমতো জামা কিনে দিতে পারিনি, র‍্যাকেটও কখনো নতুন দিতে পারিনি। কিন্তু মেয়েটা বলত— ‘মা, আমি একদিন কিছু না কিছু হবো।’ এই রাস্তায় পড়ে গিয়েও উঠেছে, কাদার ভেতর দিয়ে গেছে। আজ যখন রুপার পদক গলায় ঝুলাইতে দেখি, তখন মনে হয়— মেয়েটার সব কষ্ট সফল হলো।”

খই খইয়ের বড় বোন হ্লাহ্লাউ মারমা বলেন— “আমরা চাইতাম ও পড়াশোনার পাশাপাশি খেলায়ও এগিয়ে যাক। কিন্তু রাস্তাঘাটের অবস্থার কারণে ওকে নিয়ে উদ্বেগ ছিল সবসময়। প্রতিদিন দেরি করে ফিরত। তবুও খই খইয়ের মনোবল এত শক্ত ছিল যে কিছুতেই তাকে থামানো যেত না। আজ তার অর্জনে পুরো পরিবার গর্বিত।”

চুশাক পাড়া কারবারি উনুমং মারমা বলেন— “খই খইয়ের সাফল্য শুধু তার নিজের নয়; এটি পুরো বাংলাদেশ এবং আমাদের রাজস্থলীর গর্ব। এই এলাকা থেকে কেউ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন সাফল্য এনে দেবে— এটা ভাবতেই পারিনি। তবে আমরা চাই সরকার জরুরিভাবে আমাদের রাস্তাটির দিকে নজর দিক। রাস্তা ঠিক হলে আরও অনেক প্রতিভা উঠে আসবে। খই খই এই এলাকার একটি আলোকবর্তিকা।”

খই খইয়ের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণ নয়, এটি বাংলাদেশের সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন— “প্রতিভা যদি সুযোগ পায়, পাহাড়ের দুর্গম পথও একদিন বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যায়।”

কোয়ান্টাম স্কুলের সাদামাটা হলরুমে প্রতিদিনের অনুশীলন, সহপাঠীদের উৎসাহ, শিক্ষকদের পরামর্শ—সবকিছু মিলেই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তাঁর কোচ বলেন— “খই খই এমন এক খেলোয়াড়, যাকে যত কষ্টই আসুক, সে থামে না। রাস্তাঘাটের সমস্যা, দারিদ্র্য—কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। ভবিষ্যতে সে বাংলাদেশের জন্য আরও বড় কিছু করবে।”

রুপার পদক হাতে খই খই বলেন— “আমার যাত্রা সহজ ছিল না। গ্রামের রাস্তাগুলো বর্ষায় ভয়ংকর হয়ে যায়। কতদিন পড়ে গেছি, কতদিন হাঁটতে হাঁটতে পা ব্যথা করেছে। কিন্তু আমি কখনো থামতে চাইনি। দেশের জন্য আরও ভালো ফল আনতে চাই। আমার গ্রামের রাস্তাগুলো ঠিক হলে আমি বিশ্বাস করি—আমার মতো আরও মেয়েরা খেলাধুলায় এগিয়ে আসবে।”

খই খই সাই মারমার রুপালি অর্জন শুধু তাঁর একার নয়—এটি পাহাড়ি জনপদের সংগ্রাম, সম্ভাবনা ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।
হাসিমুখে ঝুলে থাকা সেই রুপার পদক যেন পুরো রাজস্থলীকে নতুন করে জানান দেয়— অদম্য ইচ্ছা থাকলে ভাঙাচোরা রাস্তা, কাদা কিংবা দারিদ্র্য—কোনো কিছুই পাহাড়ি মেয়ের স্বপ্ন থামাতে পারে না। দুর্গম রাজস্থলীর ছোট্ট মেয়েটি আজ বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা উড়িয়েছে—এটাই নতুন ইতিহাস।

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

ফেসবুক ইনফ্লুয়েন্সার খাবার নিয়ে আড়াই হাজার বর্ন্যাতদের পাশে

কাপ্তাইয়ে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ বিষয়ক ২ দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ সমাপ্ত 

কাউখালিতে প্রশিক্ষণের সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত

আনন্দ হাটে ডিমের ডজন ১ টাকা! একটি জামা ২ টাকা

কাপ্তাইয়ে পানির উৎসসমুহ চিহ্নিত ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক অবহিতকরণ সভা 

১৬ মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে কাউখালীর রনীর লাশ উত্তোলন 

কাপ্তাইয় জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন  ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে 

৬ বছর পর আগামীকাল রামগড়ে আসছেন ওয়াদুদ ভুইয়া

নানিয়ারচরে চলছে গণটিকা কার্যক্রম

শতাধিক অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজারের শীতবস্ত্র বিতরণ

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: