শনিবার , ২৩ মে ২০২৬ | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

খাগড়াছড়িতে চাঁদার দাবিতে খাল খননের এক্সক্যাভেটরে আগুন দিলো কারা?

প্রতিবেদক
বিশেষ প্রতিবেদক
মে ২৩, ২০২৬ ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

খাগড়াছড়িতে আবারও চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র আধিপত্য বিস্তার করতে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে। জেলার গুইমারা উপজেলায় ৪ দশক পরে খাল খনন কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সক্যাভেটরে আগুন দেওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, চাঁদার দাবিকৃত অর্থ না পাওয়ায় পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) সদস্যরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

যদিও এ বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবে এলাকায় খাল খননের কার্যক্রম চলছিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কয়েকদিন ধরে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা। কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ বাড়তে থাকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্প, সড়ক নির্মাণ, সেতু নির্মাণ কিংবা মাটি কাটার কাজ শুরু হলেই চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে কথা বলতে না চাইলেও অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেন, কাজ চালিয়ে নিতে বাধ্য হয়ে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার দিন গভীর রাত কিংবা ভোরের দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থলে আসে। পরে তারা খননকাজে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দ্রুত পুরো যন্ত্রটিতে ছড়িয়ে পড়ে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখানে ভয় নিয়ে থাকতে হয়। কে কখন কী বলে, সেটা নিয়ে মানুষ আতঙ্কে থাকে। কোনো কাজ শুরু হলেই নানা পক্ষ থেকে চাপ আসে। সবাই সব জানে, কিন্তু মুখ খোলে না।”

এ ঘটনায় প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, একটি এক্সক্যাভেটরে শুধু একটি যন্ত্র নয়; এর সঙ্গে জড়িত থাকে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, প্রকল্পের সময়সীমা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা। একটি যন্ত্র পুড়ে যাওয়ার অর্থ কয়েক লাখ থেকে কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থ সংগ্রহের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। পরিবহন, ঠিকাদারি, কাঠ ব্যবসা, উন্নয়ন প্রকল্প, এমনকি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, পাহাড়ে একাধিক আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় থাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিযোগিতাও রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় দুই দিকের চাপের মধ্যে পড়ে যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পার্বত্য এলাকায় সড়ক নির্মাণ, পর্যটন, কৃষি সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বেড়েছে। কিন্তু এর পাশাপাশি নিরাপত্তা সংকট ও চাঁদাবাজির অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। ফলে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রশ্ন একসঙ্গে সামনে চলে এসেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের হামলা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে শুধু প্রকল্প নয়, সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

খাগড়াছড়ির স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অনেক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মামলা করতে চান না। কারণ অভিযোগ করলে পরবর্তীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা কাজ করে। ফলে অনেক ঘটনাই আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র ও সশস্ত্র কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন বলেও জানানো হয়।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন অভিযান চললেও কেন চাঁদাবাজি ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না? কেন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সংকট, আস্থাহীনতা ও সশস্ত্র রাজনীতির প্রভাবের কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।

এদিকে এক্সক্যাভেটর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। তাদের ভাষায়, পাহাড়ে ভয় এখন এক ধরনের নীরব বাস্তবতা।

ঘটনার পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, চাঁদার দাবির অভিযোগ কতটা সত্য এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কারণ পাহাড়ের মানুষ উন্নয়ন চায়, কিন্তু সেই উন্নয়ন যদি আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে যায়, তাহলে তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে।

পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতা একে অপরের পরিপূরক। এর একটি দুর্বল হলে অন্যগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়ে। খাগড়াছড়ির এ ঘটনা সেই বাস্তবতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে সামনে এলো।

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

বিজ্ঞানী ড. মংসানু মারমার বক্তব্য শুনল মহালছড়ির শিক্ষার্থীরা

রাঙামাটিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সেমিনার অনুষ্ঠিত

রাঙামাটিতে বৈষম্য ও সন্ত্রাস বিরোধী মহাসমাবেশ বাঙালি ছাত্র পরিষদের

বরকলে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

বরকলে আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

কাপ্তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪২ বছর পর অপারেশন থিয়েটার উদ্বোধন

খাগড়াছড়ির বর্মাছড়িতে অপারেশন উত্তরণে নিরাপত্তা বাহিনীর কাজে বাঁধা

কাপ্তাইয়ের নতুন এসিল্যান্ড নেলী রুদ্র

‎রাঙামাটিতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা

কেপিএম সিবিএ সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: