বৌদ্ধদের চতুর্থ সংঘরাজ ও সাদা মনের মানুষ হিসেবে খ্যাত শ্রীমৎ তিলোকানন্দ মহাথেরোর জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় দিন রাঙামাটিতে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলার শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার মাঠে আয়োজিত ধর্মীয় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। ধর্ম দেশনা দেন শাক্যমনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরাে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রদ্ধালংকার মহাথেরাে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের সাবেক অধ্যক্ষ ড. জিনবোধি মহাথের, মালোশিয়ার ধর্মীয়গুরু ধম্মাজ্যোতি মহাথেরা, থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ ভিক্ষু পারা সামানসহ অন্যরা।

সকাল থেকে ভিক্ষুসংঘের অংশগ্রহণে ধর্মীয় রীতি ও বিধিবিধান অনুসরণ করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সূত্র পাঠ, প্রার্থনা ও পুণ্যকর্মের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হয়। অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মের চিরাচরিত রীতিনীতি অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ে ত্রিরত্ন বন্দনা, পঞ্চশীল গ্রহণ, ধর্মদেশনা ও সূত্র পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ভক্তরা শ্রদ্ধেয় সঙ্গরাজের স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি ও নির্বাণলাভ কামনায় সমবেত প্রার্থনায় অংশ নেন।
ধর্মসভায় তিন দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারে পেটিকাবদ্ধ (কৃত্রিমভাবে সংরক্ষিত) অবস্হায় রাখা তিলোকানন্দ মহাথোরোকে হাজার হাজার পূর্নাথীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্য পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, অন্তর্বতী সরকার নির্বাচনের পথে রয়েছে। দুই মাসের মধ্য নির্বাচন সম্পন্ন করে নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, তিলোকানন্দ মহাথেরাে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেছেন তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। যদি কতৃত্ব ধরে না রাখতে পারি তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ আমাদের ক্ষমা করবে না।
উল্লেখ্য, মহাপ্রয়ান তিলোকানন্দ মহাথের ছিলেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা, মিয়ানমার সরকার প্রদত্ত “অগ্রমহাপণ্ডিত” উপাধিপ্রাপ্ত, এটিএন বাংলা ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃক “সাদা মনের মানুষ” স্বীকৃতিপ্রাপ্ত, কাচালং শিশু সদনের অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহন করেন। ২ নভেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে তার মহাপ্রয়ান ঘটে।


















