পাহাড়ে বন জংগল উজার করে দিচ্ছে সশস্ত্র আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো। এই সশস্ত্র গ্রুপগুলো নিজ নিজ এলাকা ও তাদের সীমানার মধ্যে বনাঞ্চল ধংস করে নিজেরা গভীর জঙ্গল থেকে গাছ কাটে ও কাঠ পাচারের সাথে জড়িত। এতে করে কোটি কোটি টাকা ইনকাম এসব অস্ত্রধারীদের। এই টাকা দিয়ে তারা অস্ত্র গোলাবারুদ ক্রয় করে। সোমবার সকালে রাঙামাটি সেক্টরের অধীনস্থ লংগদু উপজেলার ৩৭ বিজিবি রাজনগর জোন এই অভিযান পরিচালনা করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ২টি ক্যাম্প গুড়িয়ে দেয় এবং পাচারের উদ্দেশ্যে জমিয়ে রাখা কাঠ জব্দ করা হয়। তবে এসময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি রাজনগর সূত্রে জানা যায়, গহীন জঙ্গলে সন্ত্রাসীরা ক্যাম্প তৈরি করে রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে ৫ হাজারের অধিক সেগুন কাঠ কেটে পাচারের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার সর্রোয়াতলী এলাকার গহীন জঙ্গল থেকে এসব কাঠ জব্দ করে বিজিবির রাজ নগর জোন। রাজনগর জোন অধিনায়ক লে.কর্নেল শাহ নেওয়াজ তাসকিনের দিকনির্দেশনায় অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং অত্র জোনের সহকারী পরিচালক কে এইচ এম গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহল দল এসব কাঠ জব্দ করে।
রাজনগর জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল শাহনেওয়াজ তাসকিন বলেন, তথাকথিত হিল ভয়েস নামক একটি ফেইসবুক ভিত্তিক একটি পোর্টাল রাজনগর বিজিবির গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে একটি অসত্য, গুজবসম্বলিত খবর এবং অসংশ্লিষ্ট ছবি ব্যবহার করে বিজিবির ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উক্ত নিউজ চ্যানেলটি ব্যবহার করা হয়েছে। সত্যিকার অর্থে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজনগর জোন ৩৭ বিজিবি কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ অপারেশনের অংশ হিসেবে উল্লেখিত কামারকছড়া নামক স্থানে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাস্তবিক অর্থে এখানে কোন পাহাড়ি বসতি নেই এবং স্থানটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অংশ।
তিনি আরো বলেন, উক্ত স্থানে পাচারকারী ও সন্ত্রাসী কর্তৃক সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নির্বিচারে সেগুন গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও পরিবেশ ধ্বংসের পরিকল্পনার একটি অংশ। পরিচালিত অভিযানে বিজিবি টহল দল কর্তৃক দুইটি কাঠ চোরাকারবারী ও কাঠ সন্ত্রাসীদের আস্থানা ধ্বংস করা হয় এবং উদ্ধারকৃত কিছু সেগুন গাছের লগ স্থানীয় বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়।
সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দন্ডনীয় অপরাধ। নির্বিচারে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংসকারী, কাঠ পাচারকারী ও সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যে সতর্ক করে আরো বলেন, ভবিষ্যতেও রাজনগর জোন কর্তৃক এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন বিভাগকে সাথে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই সফল অভিযানকে ভিন্ন ভাবে প্রবাহিত করে প্রচার করছে সন্ত্রাসীরা। যা আইনশৃংখলা বাহিনীর কার্যক্রমকে দমিয়ে রাখার সামিল। তারা বিভিন্ন ফেক নিউজ পোর্টাল থেকে বিজিবির সম্মানহানী করে মিথ্যা ভুয়া অসত্য তথ্য প্রচার করে বেড়াচ্ছে।


















