আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির অবস্থা পর্যালোচনার লক্ষ্যে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলায় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
কাপ্তাই ওয়াগ্গা ছড়া ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর আওতাধীন দায়িত্বপূর্ণ এলাকার অংশ হিসেবে জোন কমান্ডার লে. কর্নেল কাওসার মেহেদী সিগন্যালসের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টিম আজ সকালে রাজস্থলী উপজেলার মোট ৮টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে।
পরিদর্শনকালে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রগুলোর ভৌত অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বাহির পথ, আশপাশের পরিবেশ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ দিকসমূহ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ভোটার ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এ সময় বিজিবি সদস্যরা শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, গুজব কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিদর্শন শেষে কাপ্তাই ওয়াগ্গা ছড়া ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল কাওসার মেহেদী সিগন্যালস বলেন, “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি অঞ্চলে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিজিবির জনকল্যাণমূলক ও নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। জনগণের সহযোগিতায় আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই।”
স্থানীয়রা বিজিবির এই পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার হলে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং তারা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় রাজস্থলী উপজেলায় নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রেক্ষাপটে বিজিবির আগাম প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতা স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


















