শুক্রবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৬ |
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান: অতীত আর ভবিষ্যত না মিলুক– প্রদীপ চৌধুরী

প্রতিবেদক
প্রদীপ চৌধুরী, পাহাড়ের সংবাদকর্মী
এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ৬:২৯ অপরাহ্ণ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, খাগড়াছড়ি জেলার সকল মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। আইনগতভাবে এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান একজন ‘উপজাতীয়’র জন্য সংরক্ষিত। তাই ধরেই নেয়া যায়, খাগড়াছড়ির চাকমা-মারমা এবং ত্রিপুরা জনগোষ্ঠির যে কোন একজন ক্ষমতাসীন সরকারের মনোনয়নে চেয়ারম্যান হবেন। বাকী অধিকাংশ সদস্যও এই তিন সম্প্রদায় থেকেই মনোনীত হয়ে আসবেন।

বিগত অন্তর্বতী সরকারের প্রথম দিকে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান মনোনীত এক ব্যক্তিকে নিয়ে মহা টানাটানি চলেছিলো। এন্তার গণমাধ্যম, গণমাধ্যমকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁকে ট্রল করা হয়েছিল। সাইবার বুলিংয়ের কথা না হয় বাদই দিলাম। এসময় বাদ-চিৎকারের মূল কারণ হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে; সবকিছুর উর্ব্ধে ‘টন-টাকা’র ভাগ-বাটোয়ারার প্রশ্নটিও সামনে চলে আসে। শেষতক তাঁকে অমার্জিতভাবেই বিদায় নিতে হয়েছে। আচ্ছা সে তো গেলো! এই পরিষদটি অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত হলেও খাগড়াছড়ির বাস্তবতায় তাঁরা রুটিন ওয়ার্ক ছাড়া খুব বেশি কাজ করতে পারছেন না। বরাদ্দ বিভাজন থেকে বদলি আর নিয়োগ; সবখানেই প্রভাব আর প্রতিপত্তির কাছে হার আর হার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোদ প্রতিষ্ঠানটির কয়েক সদস্য আর কথিত সমাজকর্মীদের ওপেন বিতন্ডা দেখে তাই মনে হচ্ছে।

তা হলে প্রতীয়মান হচ্ছে, অতীতের মতোই প্রতিষ্ঠানটিত খুব তাড়াতাড়ি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে, এটি মনে করার কোনই কারণ নেই। এখন দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি নিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। তাঁদের মনোনীত ব্যক্তিরাই চেয়ারম্যান এবং সদস্যপদে আসীন হবেন। এটি নিশ্চিত এবং শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে ভয়াবহ অনিয়ম বাসা বাঁধে বিগত ‘২০০২ থেকে ২০০৬ সাল’ মেয়াদে নক্ষত্র লাল দেববর্মণের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে। প্রয়াত এই চেয়ারম্যানের সময়ে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের ম্যাসাকার মানুষের মন থেকে এখনো মুছেনি। সেই ধারাবাহিকতায় চব্বিশের পাঁচ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে বিদায়ী সরকারটির টানা তিনটি মেয়াদের অবস্থাও তথৈবচ। এই সময়ে সরকারি ও পরিষদের নিজস্ব টাকায় ব্যক্তিগত উন্নয়নের নতুন মহোৎসব চালু হয়। শুধু তাই নয়, কাড়ি কাড়ি টাকার বদলে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদে এবং চল্লিশের কোটায় নিয়োগের মধুর সুযোগে চেয়ারম্যান-সদস্যরা কী করেছেন; তার জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট। শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বয়সসীমার অনুশাসন-বিধিবিধান অমান্য করে প্রায় এক’শ জন নারী ও পুরুষকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দিয়েছিল খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ। নানা ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান-আদালতের দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা দিয়েও তাঁরা তিন বছরের বেশি সময় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আদৌ তাঁরা বেতন-ভাতা পাবেন কী না, বিষয়টি একেবারেই অনিশ্চিত। এবার চিন্তা করেন, অনৈতিক কাঁচা টাকার লোভ, সরকার মনোনীত এইসব বিবেকবান মানুষের বিবেককে কতোটা নিচে নামিয়ে দিয়েছে। নিয়োগকারী হর্তাকর্তারা সবাই এখন পলাতক। অথচ সর্বস্ব হারিয়ে শেষ বয়সে চাকরি নিয়ে এখন জীবনই তাঁদের বিপন্ন। এমনকি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারও এইসব অসহায় শিক্ষকদের দায় নেয়নি।

সমাজের সচেতন অংশরা মনে করেন, অতীতের চেয়ারম্যান-সদস্যদের সামাজিক অবস্থা ও অবস্থানের ইতিহাস; চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ভবিষ্যত ভালো হবার নয়। তাঁদের অনেকের বাড়ির পর পর বাড়ি হয়েছে, বেড়ার ঘর দালান থেকে বহুতল হয়েছে। বাগান-বাগিচা বেড়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট হয়েছে। ছেলে মেয়েদের দেশে ও বিদেশে নামী-দামী প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সামর্থ্য হয়েছে; কিন্তু দরিদ্র-প্রান্তিক মানুষের ন্যায্যতার বিষয়টিই শুধু বেমালুম ভুলে থেকেছেন। শুধু চেয়ারম্যান-সদস্যরাই নন, পরিষদের কর্মচারি থেকে কর্মকর্তাদের অনেকের অবস্থাও টাকা-পয়সায় বেগতিক!

আসা যাক মূল আলোচনায়। সরকার সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করে এনেছেন। প্রশাসক মনোনয়ন দিচ্ছেন সমতলের জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোতেও। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, পাহাড়ের শক্তিশালী তিনটি পরিষদেও নতুন মুখ আসবে খুব শিগগির।
যতোই দিন গড়াচ্ছে, খাগড়াছড়ির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খাগড়াছড়ির বিএনপি ঘরানার চাকমা-মারমা-ত্রিপুরা নেতা ও কর্মীদের মধ্যে বাগাড়ম্বর বাড়ছে। কেউ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিউনিটিভিত্তিক ভোটের পরিসংখ্যান, কেউ বিগত দিনে রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষা, কেউ কে কতোটি মামলা আর হামলার শিকার হলো, আবার কেউবা দলের নানা কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের পেছনে কতো টাকা খরচ করলো, আবার কেউ জেল খাটলো কী না; এসব প্রশ্ন-উত্তর এবং পাল্টাপাল্টি ভোল রটাচ্ছে।

এইসব ছাপিয়ে কোন কোন পক্ষ একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামে কোন কমিউনিটির ভূমিকা কেমন এবং শান্তিচুক্তি’র আগে ত্রিপুরায় খাগড়াছড়ির দেশান্তরি পাহাড়িদের উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় গ্রহণের কর্তৃত্ব কৃতিত্ব নিয়েও বুলি আওড়াচ্ছেন। ব্যক্তিগত বাদ-বিবাদের এই ছদ্মযুদ্ধে উঠে আসছে; কে কখন আঞ্চলিক দল করেছেন, ধর্ষণসহ নানা সাম্প্রদায়িক সংঘাতে কতোটা ভূমিকা রেখেছেন অথবা কারো অতীত-বর্তমানের নানা ব্যক্তি জীবনের অসঙ্গতিও।

এসবের মূলেই হলো পরিষদে যাবার উদগ্র বাসনা। যা জনসেবার চেয়ে পূর্বসুরীদের মতো সহজে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাবার খায়েস। কিন্তু একজন সম্ভাব্য প্রার্থী বা তাঁর অনুগামীদের মুখে উঠছে না; আমাদের নেতা খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদকে দুর্নীতি আর অনিয়মের আখড়া বানাবেন না। চাকরির বিনিময়ে গরীব-মেহনতি-প্রান্তিক মানুষের সহায়-সম্বল বিক্রি করতে বাধ্য করবেন না, কেউ তুলে ধরছেন না, তাঁর বর্তমান সহায়-সম্পত্তির বিবরণও। কথা দিচ্ছেন না, ভবিষ্যতে তিনি চেয়ারম্যান হলে তাঁর সহায়-সম্পদ অন্যায্যভাবে বাড়বে না। তিনি পরিষদটিকে স্বজনপ্রীতিমুক্ত রাখবেন। সব সম্প্রদায়কে সমান চোখে দেখবেন। পরিষদকে যতোটা সম্ভব সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখবেন।

তাই, খাগড়াছড়িতে এক চেয়ারম্যান পদ নিয়ে তিন কমিউনিটির টেনশন কেনো? প্রশ্নটি এখনকার বাস্তবতায় খাগড়াছড়ির জন্য লাখ টাকা নয়, কোটি টাকার প্রশ্ন। কিন্তু আমরা যারা আম জনতা, যাঁরা সংখ্যায় বেশি হলেও কন্ঠ অনুচ্চ, তাঁদের কাছে এটি হাজার টাকা প্রশ্ন। কারণ আড়ালে আবডালে যাঁরাই চেয়ারম্যান হবার দৌঁড়ে শামিল হয়েছেন, তাঁরা সবাই পরিচিত। কেউ কেউ সুপরিচিতও। নানা অভিযোগ থাকলেও কেউ কেউ সজ্জ্বনও। তাঁদের নাম ধরে বলার কিছু নেই। যেহেতু সরকারে বিএনপি। যেহেতু এখানে বিএনপি থেকেই নির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্য। সংগত কারণেই খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি এবং এই আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের বিবেচনার গুরুত্বটি প্রণিধানযোগ্য।

সাধারণ মানুষের চাওয়া, রাতারাতি পরিবর্তন নয়, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের এমন ব্যক্তি আসুক যাঁরা ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি জন-প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর মতো সক্ষমতা অর্জনের পথে নিয়ে যাবেন। মানুষ যেনো মুখ ফুটে বলতে পারে, এই পরিষদ আর আগের মতো নেই।

প্রদীপ চৌধুরী: পাহাড়ের সংবাদকর্মী।

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

দীঘিনালায় পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি প্রশিক্ষণ

জাতীয় শিশু দিবসে কাপ্তাইয়ে সর্বস্থরের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন  

রাঙামাটিতে পুলিশী অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৮

কাপ্তাই বিএসপিআই এর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কাপ্তাই বিএসপিআই এ বিনামূল্যে ব্লাডগ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন 

কাপ্তাইয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১১৪০ জন পরীক্ষার্থী

কাউখালীর ছিদ্দিক – ই- আকবর ( রাঃ) মাদ্রাসার দুই  দিনব্যাপি বার্ষিক মাহফিল সম্পন্ন

খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগ বিএনপি’র কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া,  উভয়পক্ষের আহত ৮

কাপ্তাইয়ের দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

বাঘাইছড়িতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে বিএনপির দোয়া মাহফিল

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: