মানুষ বেঁচে থাকে স্বপ্ন নিয়ে। একটি নিরাপদ আশ্রয়, দুমুঠো খাবার আর সন্তানদের মুখে হাসি এগুলোই একজন মানুষের স্বাভাবিক চাওয়া। কিন্তু বাস্তবতা সবার জন্য সমান নয়। কেউ স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যায়, আবার কেউ প্রতিদিন সংগ্রাম করে শুধু বেঁচে থাকার জন্য।
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উগলছড়ি এলাকার দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্তা মিনু আক্তারের জীবন যেন সেই কঠিন বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত টিন ও প্লাস্টিক দিয়ে কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে তাদের বসতঘর। জরাজীর্ণ সেই ঘরের ছাউনি বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে। ফলে রাতের অন্ধকারে সন্তানদের নিয়ে কখনো ঘরের ভেতর ছাতা মাথায় বসে থাকতে হয়, আবার কখনো বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিতে হয় প্রতিবেশীদের ঘরে।
মিনু আক্তার জানান, অন্যের বাড়িতে কাজ করে এবং প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কোনোমতে সংসার চালান তিনি। বড় মেয়ে লিজা আক্তারকে অনেক কষ্টে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়াশোনা করাতে সক্ষম হলেও অর্থাভাবে তার পরবর্তী পড়াশোনা এখন অনিশ্চিত। একই সঙ্গে মেজো মেয়ে ও ছোট ছেলের লেখাপড়াও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক সময় তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারেন না। তাই স্বাভাবিক জীবনযাপন তাদের কাছে যেন এক দূরবর্তী স্বপ্ন।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন মিনু আক্তার। সামর্থ্য অনুযায়ী তারা সহযোগিতা করলেও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। একটি নিরাপদ বাসস্থান ও পরিবারের জন্য টেকসই আয়ের ব্যবস্থা না হলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মিনু আক্তারের বড় মেয়ে লিজা আক্তারের জন্য একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ কিংবা পরিবারটির জন্য সরকারি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা গেলে তাদের জীবন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
পরিবারটির মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


















