রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হাবিব আজমকে ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। আহত শহিদুল ইসলাম রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রচার সম্পাদক। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনায় রাঙামাটি কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার সময় শহিদুলের ব্যবহৃত (খাগড়াছড়ি ল ১১১৭৬৪) নম্বর যুক্ত Honda X-Blade 165 মোটরসাইকেল, নগদ টাকা ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হামলার সময় মোবাইল ফোনে কল দেওয়ার চেষ্টা করলে সেটিও কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জানা গেছে, সম্প্রতি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর সাবেক সদস্য হাবিব আজম এক বক্তব্যে বলেন, “রক্ত বিক্রি করে হলেও জনগণের সেবা করে যাবো।” ওই বক্তব্যকে ইঙ্গিত করে শহিদুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, “জনগণ বিক্রি করে হলেও রক্তের সেবা করে যাবো।” স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলার শিকার শহিদুল ইসলাম বলেন, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য হাবিব আজমের ছোট ভাই হাসিব (২২) তাকে ফোন করে দেখা করতে বলেন। পরে সেখানে গেলে কৌশলে তাকে কাঁঠালতলীর একটি গোডাউনের নির্জন স্থানে নিয়ে কয়েকজন মিলে মারধর করেন। এ সময় হামলাকারীরা তাকে বলতে থাকে, “হাবিব ভাইয়ের বিরুদ্ধে আর পোস্ট দিবি কিনা?” এতে তার ধারণা, ফেসবুকে করা পোস্টের কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পরে তিনি দৌড়ে কাঁঠালতলী ধোপাপাড়ার সামনে চলে আসেন। সেখানেও তাকে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার মোটরসাইকেল ও মানিব্যাগ এখনও পাওয়া যায়নি।
শহিদুল ইসলাম বর্তমানে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনায় রাঙামাটি কোতয়ালি থানায় সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য হাবিব আজমের ছোট ভাই হাসিবসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
এদিকে মারামারির বিষয়টি স্বীকার করে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য হাবিব আজম বলেন, শহিদুল ইসলাম তো এর আগেও আমাকে নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছে কিন্তু আমি তো কিছু বলিনি। আমার ছোট ভাই ছাত্রদল করে শহীদুলও ছাত্রদল করে। তো শহীদুল দোকানের কাছে গিয়ে টিটকারি করতে থাকে। পরবর্তীতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা নিজেরা নিজেরাই হাতাহাতি করে। এইটা তাদের দলীয় বিষয়। সে তো আমার বিরুদ্ধে ১০০ বার স্ট্যাটাস দিয়েছে, আমি কি তাকে ১০০ বার মারছি নাকি মারতে বলছি কখনও।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জসিম উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















