রাঙামাটিতে সরকারি সফরে এসে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। প্রতিমন্ত্রীর সফর ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ছিল সরব উপস্থিতি। কিন্তু এসব কর্মসূচিতে চোখে পড়েনি রাঙামাটি-২৯৯ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানের উপস্থিতি।
রোববার সকাল থেকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাঁকে ঘিরে উপস্থিত থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষ করে একজন বর্তমান সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী সরকারি সফরে এলেও তাঁর সঙ্গে প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচিতে এমপিকে দেখা না যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক মহলে।
তবে দীপেন দেওয়ান কেন এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন না সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা পরিষদ ঘোষণার পরই কি নতুন সমীকরণ?-রাঙামাটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে গত ২০ আগস্ট পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনকে ঘিরে। ওই দিন সরকার রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ ঘোষণা করে। চেয়ারম্যান করা হয় রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুকে। নতুন পরিষদে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদসহ ১৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই ঘোষণার পর থেকেই রাঙামাটির রাজনৈতিক অঙ্গনে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব সাংগঠনিক কর্তৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলালের রাঙামাটি সফরে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি এবং এমপি দীপেন দেওয়ানের অনুপস্থিতি সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দীপেন দেওয়ান ও মীর হেলাল একই মন্ত্রণালয়ে যথাক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ এবং মীর হেলালের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকে ঘিরেও রাঙামাটিতে রাজনৈতিক আলোচনা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা গেছে।
জুন মাসেও রাঙামাটিতে দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রিত্বে পুনর্বহাল এবং মীর হেলালকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপির কর্মসূচি হয়েছিল।
ফলে ২০ আগস্ট জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দীপন তালুকদার দীপুর নিয়োগ এবং তার কয়েক দিনের মাথায় প্রতিমন্ত্রীর সরকারি সফরে এমপি দীপেন দেওয়ানের অনুপস্থিতিকে একই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন অনেকে। যদিও এই দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে এমন প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
রাঙামাটির রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলালের পাশে যখন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বড় উপস্থিতি তখন বর্তমান সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান সেখানে নেই কেন? এটি কি নিছক কর্মসূচিগত ব্যস্ততা? নাকি রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হচ্ছে?
২০ আগস্ট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দীপন তালুকদার দীপুর নিয়োগের পর যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, প্রতিমন্ত্রীর সফরের দৃশ্যপট যেন সেই আলোচনাকেই আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
এখন রাঙামাটির রাজনীতিতে মূল প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রীর পাশে যখন সবাই, তখন নেই শুধু এমপি দীপেন দেওয়ান। এটা কি কেবল একটি দিনের অনুপস্থিতি, নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনো রাজনৈতিক বার্তা? উত্তর মিলবে হয়তো আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই।


















