রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু বলেছেন, সাইড লাইন থেকে আর গোল দেয়া যাবেনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালকে দিয়ে উন্নয়নের ট্রেন চালু করে দিয়েছে। এলাকার জন্য কিছু করতে চাইলে এই টেনে আসুন। অনেক কিছুর রুপ দেখেছি, ক্ষমা করে দিয়েছি সে নগ্ন রুপকে। কোন প্রকার সাইড লাইন থেকে কাউকে সুযোগ দেয়া হবে না।
তিনি বলেন -জনগনের জন্য কাজ করুন সবকিছু ঠিক মতো পেয়ে যাবেন। দলের ভিতরে থেকে কেউ কোন প্রকার অন্যায় কাজ করলে আর নোটিশও দেওয়া হবে না। সরাসরি এ্যাকশনে যাবে দল। আর কোন ছাড় নয়। সবাইকে ঐক্যবন্ধ হয়ে একসাথে দলের জন্য কাজ করার আহবান জানান।
আজ শনিবার (১২সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কাউখালীতে দেয়া সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
কাউখালী উপজেলায় নবগঠিত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যবৃন্দকে এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা দিয়েছে। কাউখালী উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।
দীপন তালুকদার দীপু একটি যুগান্তকারী ও আপডেট রূপরেখা ঘোষণা করে বলেন, “বিগত ১৭ বছরের জগদ্দল পাথর সড়ে গেছে। এখন পার্বত্য জেলা পরিষদকে শতভাগ দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত করে সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এই পরিষদ কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি পাহাড়ের সর্বস্তরের মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠান। দূনীর্তিমুক্ত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করে দৃস্টান্ত স্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতি সুনিশ্চিত করা আমাদের প্রথম লক্ষ্য। অনগ্রসর উপজেলাগুলোর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং স্থানীয় পর্যটন খাতকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসইভাবে বিকশিত করতে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেছেন এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার প্রতিটি উপজেলায় কি কি প্রকল্প গ্রহন করা হলে এ এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা যাবে।
তিনি বলেন- ব্যাংক ঋনের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করে বেকার যুবক/যুবতীদের আত্নকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পর্যটনের মাধ্যমে পাচ হাজার জনগনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এ এলাকার ফলমুল সংরক্ষন করার জন্য বৃহৎ দুটি কোল ষ্টোরেজ নির্মান করা হবে। এছাড়াও প্রতিটি বাজারে এক হাজার মেট্রিকটন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন কোল ষ্টোরেজ নির্মান করা হবে। তিনি বলেন -প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাঙ্গামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য বৃহৎ আকারে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করেছেন।
তিনি কাউখালীসহ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সার্বিক শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও ত্বরান্বিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এলাকার টেকসই উন্নয়নে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
কাউখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য এ্যাড. মামুনুর রশীদ মামুন। সংবর্ধনায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবগঠিত সদস্য পাইচিং মং মারমাসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কাউখালী উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল মোতালেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর তারা মিয়া।
এতে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক তারেক হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তামজীদ উদ্দিন, মৎস্যজীবি দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক সেকান্দর হোসেন, জাসাসের সভাপতি কামাল হোসেন,তাতী দলের সভাপতি আলী হায়দার, যুবদল নেতা মোঃ শরীফ, যুবদলের সভাপতি মোমিনুল করিম, বেতবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আলী হোসেন, কলমপতি ইউনিয়ন বিএনরি সভাপতি নাছির উদ্দিন, ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর তারা মিয়া, যুগ্ন সম্পাদক ছগির আহাম্মদ, সহ-সভাপতি সাজাই মং মারমা, অর্জুন মনি চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ছৈয়দুল আলম মেম্বার প্রমুখ।
সংবর্ধনা অনুষ্টানে কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন বক্তারা বলেন, কাউখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় বিএনপির রাজনীতিকে ধবংস করার জন্য কাউখালী উপজেলায় নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। বক্তারা কাউখালীতে নোংরা বাজনীতির গডফাদারকে চিহিৃত করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান। বক্তারা বলেছেন,দলের মধ্যে কিছু দুষ্ট লোকের কারনে কাউখালীর মতো সুন্দর উপজেলাকে কুৎসিত করা যাবে না। দলের নামধারী এসব নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের হেনস্থা করছে।
অনুষ্ঠানে কাউখালী উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সামাজিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে নতুন পরিষদকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।


















