পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘রাঙ্গামাটি চ্যাম্পিয়নস লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর প্রথম শিরোপা জিতেছে বিলাইছড়ি উপজেলা। রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার(১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙ্গামাটি মারী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে দুই দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে রাঙ্গামাটি সদরকে পেছনে ফেলে শিরোপা নিশ্চিত করে বিলাইছড়ি।

রাঙ্গামাটি রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খেলোয়াড়রা অংশ নেন। টুর্নামেন্ট ঘিরে শুরু থেকেই রাঙ্গামাটির ক্রীড়াঙ্গনে ছিল উৎসবের আমেজ। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের একসঙ্গে খেলায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে উঠে আসে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, রাঙ্গামাটির মানুষের কাছে ফুটবল অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, তরুণদের মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ‘মাদকমুক্ত হোক সমাজ, ক্রীড়া হোক হাতিয়ার’—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
‘রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, এসপিপি, এনডিইউএসসি, পিএসসির সভাপতিত্বে অনুস্টিত পুরষ্কার বিতরন অনুস্টানে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন,রাঙ্গামাটি জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম এবং রাঙ্গামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ভূট্টো।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে অংশ নেয় রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, কাউখালী, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি ও লংগদুসহ দশটি উপজেলা।
গত ৮ সেপ্টেম্বর এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।আয়োজকদের ভাষ্য, টুর্নামেন্টটির লক্ষ্য শুধু ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়। খেলাধুলার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করা এবং তরুণ সমাজকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।


















