মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত, স্থগিত থাকা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতসহ ৮ দফা দাবিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদারে কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, পার্বত্য জেলা পরিষদের বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে আইন, সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত নিয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
সংগঠনটির দাবি, গত ৭ জুলাই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ব্যাখ্যায় জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯ এর অধীনে পৃথকভাবে কোনো পদ সংরক্ষণের সুযোগ নেই এবং যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে “অগ্রাধিকার” থাকলেও তা মেধার ঊর্ধ্বে নয় এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।সমযোগ্যতার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রযোজ্য হতে পারে তবে অধিক মেধাবী প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার ভিত্তি হিসেবে তা ব্যবহার করা যাবে না বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ২৩ জুলাই ২০২৪ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে জেলা পরিষদের নিয়োগে মেধা ও নির্ধারিত কোটা কাঠামো অনুসরণের দাবি জানানো হয়েছে। এ প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধা এবং ৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণের কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি সেই কাঠামো অনুসরণ করে নিয়োগের দাবি জানিয়েছে।
স্মারকলিপিতে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে জেলা পরিষদের সব নিয়োগে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা, স্থগিত থাকা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার দ্রুত নতুন সময়সূচি ঘোষণা ও পরীক্ষা সম্পন্ন করা, নিয়োগে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়ম রোধে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া প্রশ্নপত্র জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ট্রেজারিতে নিরাপদে সংরক্ষণ, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নিরপেক্ষ পদ্ধতি অনুসরণ, নিয়োগ পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণার আগে উপজেলাভিত্তিক কোটা ও প্রযোজ্য নীতিমালা স্পষ্টভাবে প্রকাশ এবং চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বর, নাম, পিতার নাম ও বিস্তারিত ঠিকানা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় সংগঠনটির সদস্যসচিব মো. নুরুল আলম স্থগিত থাকা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বয়সসীমা অতিক্রমকারী আবেদনকারীদের বিষয়টিও চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা দীর্ঘদিন স্থগিত থাকায় নির্ধারিত সময়ে বৈধভাবে আবেদন করা অনেক প্রার্থীর বয়স বর্তমানে সরকারি চাকরিতে আবেদনের নির্ধারিত বয়স শেষের পর্যায়ে রয়েছে। নিয়োগ কর্তৃপক্ষের কারণে পরীক্ষা বিলম্বিত হওয়ায় এসব আবেদনকারী যেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ সময় যারা নির্ধারিত সময়ে বৈধভাবে আবেদন করেছিলেন, পরবর্তীতে পরীক্ষা স্থগিত থাকার কারণে আবেদনকারীর বয়স শেষ হয় গিয়েছে তাদেরকেও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের সদস্যসচিব মো. নুরুল আলম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিষয়টিকে যৌক্তিক দাবি হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়েও ইতিবাচক আশ্বাস দেন তিনি।
কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য সৃষ্টি করা বা কোনো জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার হরণ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের মূল দাবি আইনের যথাযথ প্রয়োগ, মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং সব নাগরিকের জন্য ন্যায়সংগত সুযোগ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া অতীতের বিভিন্ন নিয়োগ ও জেলা পরিষদের কার্যক্রম ঘিরে ওঠা দুর্নীতি, অনিয়ম ও বৈষম্যের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করে ভবিষ্যতে সব নিয়োগ ও কার্যক্রম স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগতভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট।
স্মারকলিপি দেওয়ার এ সময় কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের সদস্যসচিব মো. নুরুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলে রাব্বি, ইব্রাহীম রুবেল, মো. শরিফ, মো. আশরাফুল, সদস্য মো. আল আমিন, মো. রায়ন চৌধুরী শুভ, মো. দেলাওয়ার, মো. আরিফসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


















