বুধবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২২ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

নতুন আঙ্গিকে রাঙামাটির হোটেল-মোটেল

প্রতিবেদক
পাহাড়ের খবর ডেস্ক
জানুয়ারি ২৬, ২০২২ ৯:২৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক,  রাঙামাটি।

কোভিড-১৯ মহামারীতে বছরজুড়ে নুয়ে পড়া রাঙামাটির পর্যটন শিল্প ধীরে ধীরে আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। যদিও এখনো উদ্যোক্তারা পুরোপুরি ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এদিকে ছাঁটাইয়ের কারণে বেকার হয়ে পড়ছেন এই শিল্পে নিয়োজিত বহু কর্মী। পুরনা চেহারায় ফিরে পেতে জেলার হোটেল-মোটেলগুলোকে সাজানো হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে।

চলতি মৌসুমের শুরুতেই রাঙমাটিতে পর্যটকের আগমন ঘটছে উল্লেখযোগ্য হারে। পর্যটন স্পটগুলোয় বাড়ছে নিত্যদিনকার কোলাহল ও কর্মচাঞ্চল্য। অরণ, পাহাড়, ঝরনা আর হ্রদের শহর রাঙামাটি এখন পুরোদমে প্রস্তুত পর্যটকদের বরণ করে নিতে। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে চলছে নানা আয়োজন।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘কোনোভাবেই করোনার ক্ষতি পূরণ হবে না।’ তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরীক্ষা শেষ হলে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে পুরো শীত মৌসুমজুড়ে পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা থাকবে বলে আশা করছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট (খাবারের দোকান), টেক্সটাইল (পাহাড়িদের তৈরি কাপড়), সড়ক ও নৌযান এবং বিনোদনকেন্দ্রকে (বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান) ঘিরেই মূলত পাহাড়ের পাঁচ পর্যটন খাত। পর্যটকদের আগমন না থাকায় তাঁত ও হস্তশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েক হাজার মানুষও আর্থিক সংকটে পড়েন। বিশেষ করে স্থানীয় পাহাড়িদের কোমর তাঁতে তৈরি কাপড়, পোশাক, বাঁশ ও বেতের তৈরি হস্তশিল্পে উৎপাদিত জিনিসপত্র বিক্রি বন্ধ হয়ে পড়ায় উৎপাদনও কমে পায়। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে।

রাঙামাটিতে পর্যটন কমপ্লেক্স ও সুভলং ঝরনা মিলে ২টি সরকারি পর্যটন স্পট রয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারিভাবে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা ৫০টি হোটেল-মোটেল ও ১৭টি ইকো রিসোর্ট ও বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট আছে। সেখানে প্রতিনিয়ত ভিড় জমান পর্যটকরা। তাদের সুবিধার্থে পর্যটন স্পটগুলোতে সড়ক ও নৌপথে সহজে যাতায়াতে ব্যবস্থা আছে। কিন্তু করোনার লকডাউনে বন্ধ হয়ে পড়ায় সব মিলিয়ে জেলা শহরে পর্যটনের পাঁচটি খাতে দিনে গড়ে অন্তত দেড় কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।

এ ছাড়া রাঙামাটির সাজেকে ১০৬টি কটেজ-রিসোর্টে রয়েছে। রেস্তোরাঁ, যানবাহন, কটেজ-রিসোর্টসহ সব মিলিয়ে সেখানে প্রতিদিন ৮০ লাখ টাকার বেশি লোকসান হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘করোনার লকডাউনে পাহাড়ে পর্যটন শিল্পের পাঁচ খাতে গড়ে দৈনিক কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।’

রাঙামাটিতে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে ঝুলন্ত সেতু। তাই পর্যটকরা প্রথমেই ছুটে যান পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায়। বছরে প্রায় দুই লাখ দেশি ও বিদেশি পর্যটক সেতুটি দেখতে আসেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। পছন্দের তালিকায় আছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে ওঠা শহরের পুলিশের ‘পলওয়েল পার্ক’, ডিসির ‘রাঙামাটি পার্ক’, সেনাবাহিনীর ‘আরণ্যক’, কাপ্তাইয়ে বিজিবির ‘ঝুম রিসোর্ট’। এ ছাড়া হালের আকর্ষণ ‘সাজেক ভ্যালি’ পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি টানছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সিরাজগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম (৪৫) বলেন, রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। তবে এর সঙ্গে পাহাড়ে ক্যাবল কার, সুইমিং পুল, ওয়াটার রাইড, বাচ্চাদের বিনোদন সামগ্রী ও আধুনিক মুভি থিয়েটার থাকা দরকার। বিশ্বমানের পর্যটন গড়ে না উঠলে একটা সময় আবেদন হারাবে রাঙামাটি।

নরসিংদীর ব্রাহ্মণদি কেকেএম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আল আমীন (৩৪) বললেন, আবাসিক হোটেলগুলোতে লিফট, র‌্যাম্প দরকার। এ ছাড়া পর্যটন স্পটগুলো কেন বিখ্যাত তার ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে ‘তথ্যফলক’ থাকলে সুবিধা হতো’।

পর্যটন ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সহসভাপতি মো. মোস্তফা বলেন, ‘পর্যটকের ওপর নির্ভরশীল আমাদের আয়-রোজগার। লকডাউন থাকায় সব বন্ধ ছিল। আশা করছি এই মৌসুমে পর্যটন চাঙ্গা হবে।’

ঝুলন্ত সেতুর টিকিট বিক্রেতা মো. সোহেল জানান, শুক্র-শনিবারসহ সরকারি ছুটির দিনে গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক আসেন।

রাঙামাটি আবাসিক হোটেল-মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হোটেল ড্রীমওয়ের স্বত্বাধিকারী মোস্তফা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘করোনার লকডাউনে দুই দফায় মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দা পার করেছি। তখনকার ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হবে না। তবে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে পুরো শীত মৌসুম পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা থাকবে বলে আশা করছি।

পর্যটন বিকাশে সরকারি তরফে নানান উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তুলেছেন ব্যক্তি উদ্যোগে প্রথম গড়ে ওঠা ইকো রিসোর্ট ‘রাইন্যা টুগুন’-এর উদ্যোক্তা ললিল চন্দ্র চাকমা। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দূরে রেখে পর্যটন শিল্পের বিকাশ সম্ভব নয়। এ জন্য স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পুঁজি, অনুমোদন, পরিকল্পনা এবং অবকাঠামো সুবিধা, বিশেষ করে সড়ক ও বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে হবে। আর পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা, প্রাইভেসি ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

ললিল চাকমা আরও ‘পর্যটন নীতিমালা ২০১০ পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য সুস্পষ্ট না। পাহাড়ের স্থানীয় ইস্যুগুলোকে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ চায় না এমন কেউ নেই। ভূমি, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সমাধান করতে হবে। স্থানীয়দের স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে। তাদের অনুভূতি, আকাক্সক্ষা বুঝতে হবে। আলোচনা করতে হবে।

রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়–য়া বলেন, ‘করোনার কারণে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দুই দফায় জেলার সব পর্যটন স্পট ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম দফায় গত বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত গত পাঁচ মাস ও দ্বিতীয় দফায় চলতি বছর গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১০ মাসে গড়ে মাসিক ৪০ লাখ করে প্রায় চার কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হবে না।’

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত
%d bloggers like this: