কাপ্তাই হ্রদের কচুরিপানা সমস্যা ও পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিজমির ঘাটতি মোকাবেলায় ভাসমান বেডভিত্তিক কৃষি চর্চা ছড়িয়ে দিতে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হলো ভাসমান কৃষি প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান। আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) আসামবস্তির ভ্রমণটিলায় স্থানীয় যুবদের নেতৃত্বে পরিচালিত LELA (Learn from the Environment and Lead to Adapt) প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই লেক বছরের পর বছর কচুরিপানার জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে তার জীববৈচিত্র্য ও নাব্যতা হারাচ্ছে। একই সঙ্গে পার্বত্য এলাকায় চাষযোগ্য জমি কমে যাওয়ায় মানুষ কৃষিকাজ ও জীবিকার নতুন বিকল্প খুঁজছে। এসব বাস্তবতা মাথায় রেখে ০৩ নভেম্বর থেকে ০১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাত দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে লিলা প্রকল্প।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য নাইউপ্রু মারমা। তিনি বলেন, কাপ্তাই হ্রদে কচুরিপানার কারণে স্থানীয়রা প্রতিবছরই নানামুখী সমস্যায় পড়েন। লিলা প্রকল্পের এই উদ্যোগ কচুরিপানাকে আয়মুখী সম্পদে রূপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাঙামাটি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ পারভীন বলেন, কচুরিপানা শুধু মানুষের জীবন-জীবিকা নয়, জলজ প্রাণীর জীবনকেও প্রভাবিত করে। তাই ভাসমান কৃষি সম্প্রসারণ ও নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা জরুরি। লিলার এই কাজ এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
টিআইবি, সচেতন নাগরিক কমিটির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর বেনজিন চাকমা বলেন, জনসংখ্যা বাড়ছে, চাষযোগ্য জমি কমছে। কাপ্তাই হ্রদের কচুরিপানাকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। এই প্রশিক্ষণে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও যুক্ত করা জরুরি।
প্রগ্রেসিভ রাঙামাটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুরো চাকমা বলেন, লিলার কাজকে আরও বিস্তৃত করতে যোগাযোগ, নেটওয়ার্কিং ও ফান্ড সংগ্রহ বাড়াতে হবে।
প্রশিক্ষণার্থী কালাসোনা চাকমা বলেন, আমরা ভাসমান বেড তৈরি শিখেছি। লিলার সহায়তায় এগুলো কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আশা রাখছি।
অন্য অংশগ্রহণকারী স্বর্ণা বেগম বলেন, পুরোপুরি সহায়তা না পেলেও নিজের পরিবারের পুষ্টিচাহিদা পূরণের জন্য আমি ভাসমান বেড তৈরি করে যাব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, হিল সার্ভিস রাঙামাটি, বিডি ক্লিন রাঙামাটি, ইয়ুথ ভলান্টিয়ার ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
ভাসমান কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে কাপ্তাই হ্রদের কচুরিপানা সমস্যাকে সম্পদে রূপান্তরের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ ও নারীর ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


















