বুধবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করেই প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ পদে শিক্ষক

প্রতিবেদক
ইমরান হোসেন, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি
ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫ ৪:৫৭ অপরাহ্ণ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে একই ব্যাক্তি এমপিওভুক্ত শিক্ষক একসঙ্গে শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত রয়েছেন। নতুন এমপিও নীতিমালায় একাধিক পেশায় সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ করা হলেও কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকতা করছেন এবং বাঘাইছড়ি প্রেসক্লার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন—যা সরাসরি সরকারি নীতিমালার লঙ্ঘন।

এর আগে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতা, আইন-পেশা কিংবা অন্য চাকরিতে যুক্ত থাকলেও সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বিষয়টি দীর্ঘদিন চলমান ছিল। বিশেষ করে মফস্বল এলাকায় এ প্রবণতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ প্রকাশিত নতুন এমপিও নীতিমালায় এই দ্বৈত পেশাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

নীতিমালার ১১ নম্বর ধারার ১৭ উপধারার ‘ক’ দফায় বলা হয়েছে—এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একাধিক চাকরি কিংবা অন্য কোনো আর্থিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। এমন কর্মকান্ডে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এমপিও বাতিলসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা সরকার সংরক্ষণ করেছে।

একই উপধারার ‘খ’ দফায় সাংবাদিকতা, আইন পেশা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকে স্পষ্টভাবে ‘আর্থিক লাভজনক পেশা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন, বাড়িভাড়া ভাতা, ঈদ বোনাসসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। ফলে সরকারি অর্থভুক্ত কর্মচারী হিসেবে তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট নীতিমালা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষকতার বাইরে সাংবাদিকতা কিংবা অন্য কোনো লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকার সুযোগ না থাকলেও তোফাজ্জল হোসেন এখনো বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি এখন তেমন লেখালেখি করি না। নীতিমালা সম্পর্কে কিছুটা জানি। পরবর্তী মিটিংয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেবো “নীতিমালা এখনো আমাদের হাতে আসেনি। যদি এটি মফস্বল সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়, তাহলে পদত্যাগ করবো।”

বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, “নীতিমালাটি পড়েছি, তবে সাংবাদিকতা কীভাবে আর্থিক লাভজনক পেশা হিসেবে বিবেচিত হয়—তা পুরোপুরি পরিষ্কার না। সে যদি চাকরি রক্ষা করতে চায়, তাহলে নিজে থেকেই পদত্যাগ করবে। আর না চাইলে বহাল থাকবে—এটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।” এ বিষয়ে প্রেসক্লাব থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, “এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী সভায় আলোচনা হবে।”

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার (অঃদাঃ) ও বাঘাইছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অঃদাঃ) সরিৎ কুমার চাকমা বলেন, “সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী একজন শিক্ষক একসঙ্গে শিক্ষকতা ও কোনো আর্থিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। একই সঙ্গে প্রেসক্লাব বা সাংবাদিকতার সঙ্গেও সম্পৃক্ত থাকা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: