সোমবার , ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

কাল থেকে ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব: প্রস্তুতি থেকে রিলংপোয়েঃ আনন্দে মুখর পাহাড়

প্রতিবেদক
উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী, রাঙামাটি
এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ২:৩৩ অপরাহ্ণ

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব ‘সাংগ্রাই’ শুরু হচ্ছে কাল থেকে। ১৪, ১৫ ও ১৬—এই তিনদিনব্যাপী চলবে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব। ইতোমধ্যে উৎসবকে ঘিরে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পাইংছোয়াই (ফুল সংগ্রহ), সাংগ্রাই জিহ (সাংগ্রাই বাজার) থেকে শুরু করে প্রধান সাংগ্রাই, বুদ্ধ স্নান, ধর্মদেশনা, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং শেষদিনের প্রাণবন্ত “রিলংপোয়েঃ” (জলকেলি উৎসব)—সব মিলিয়ে উৎসবকে ঘিরে বইছে আনন্দের বন্যা।

সাংগ্রাইয়ের সূচনা হয় পূর্ব প্রস্তুতির মাধ্যমে। এ সময় প্রত্যেক ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, পুরনো জিনিসপত্র গোছানো এবং নতুন বছরকে বরণ করার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। পাহাড়ের প্রতিটি পরিবারে শুরু হয় নতুন দিনের প্রত্যাশা আর পুরনো বছরের গ্লানি ভুলে যাওয়ার আয়োজন। অনেক পরিবারে চলে ঘর সাজানো, অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির আয়োজন।

এরপর আসে পাইংছোয়াই বা ফুল সংগ্রহের দিন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে পাহাড় ও বনাঞ্চলে গিয়ে নানা রঙের ফুল সংগ্রহ করে। সংগৃহীত এসব ফুল দিয়ে সাজানো হয় ঘরবাড়ি, উঠান এবং বৌদ্ধ বিহার। ফুলের এই আয়োজন শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়; এটি পবিত্রতা, শান্তি ও নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। প্রবীণদের মতে, “ফুলের মতো নির্মল হোক মানুষের মন—এই প্রত্যাশাই পাইংছোয়াইয়ের মূল বার্তা।”

সাংগ্রাই জিহ বা সাংগ্রাই বাজার উৎসবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। উৎসবের আগে বাজারগুলোতে জমে ওঠে কোলাহল। নতুন পোশাক, ঐতিহ্যবাহী খাবারের উপকরণ, মিষ্টান্ন, ফলমূল এবং নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাবেচায় ব্যস্ত হয়ে ওঠেন মানুষজন। অস্থায়ী দোকানপাট বসে, বাড়ে ক্রেতাদের ভিড়। বাজার ঘিরে তৈরি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ, যেখানে মিলিত হয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ, যা সম্প্রীতির এক অনন্য চিত্র তুলে ধরে।

প্রধান সাংগ্রাইয়ের দিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এদিন সকাল থেকেই সবাই নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। ঘরে ঘরে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষই অংশ নেয় এই আনন্দঘন আয়োজনে।

বিকেল দিকে বুদ্ধ স্নান ও ধর্মদেশনা সাংগ্রাইয়ের অন্যতম পবিত্র অংশ। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বুদ্ধ মূর্তিতে পবিত্র পানি ঢেলে স্নান করান, যা আত্মশুদ্ধি ও পাপমোচনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্মদেশনা প্রদান করেন, যেখানে মানবতা, সহমর্মিতা, শান্তি ও নৈতিকতার শিক্ষা তুলে ধরা হয়। এই ধর্মীয় অনুশীলন উৎসবকে আধ্যাত্মিক গভীরতা প্রদান করে।
সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও আবেগঘন ও পবিত্র। বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে জ্বলে ওঠা অসংখ্য মোমবাতির আলো যেন অন্ধকার দূর করে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক হয়ে ওঠে। এ সময় অনেকেই প্রার্থনায় অংশ নেন এবং নিজের ও সমাজের মঙ্গল কামনা করেন।

সবশেষে আসে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব “রিলংপোয়েঃ” বা জলকেলি উৎসব। এদিন তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। হাসি-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। এটি মূলত পুরনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করার প্রতীকী আয়োজন। জলকেলির এই উৎসব পাহাড়ি সংস্কৃতির প্রাণচাঞ্চল্য, ঐক্য ও পারস্পরিক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

স্থানীয়দের মতে, সাংগ্রাই শুধু একটি উৎসব নয়—এটি তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এই উৎসবের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ এই উৎসবকে করে তোলে আরও বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত।

বক্তারা জানান, “সাংগ্রাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময়। পূর্ব প্রস্তুতি থেকে শুরু করে রিলংপোয়েঃ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ আমাদের সংস্কৃতির অংশ। আমরা বিশ্বাস করি, এই উৎসব আমাদের জীবনের সব দুঃখ-গ্লানি দূর করে নতুন আশার আলো নিয়ে আসে। সকলের মাঝে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক—এই প্রত্যাশাই আমাদের।”

উৎসবের এই ধারাবাহিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি জনপদ এখন এক আনন্দমুখর পরিবেশে রূপ নিয়েছে। ১৪, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল তিনদিনব্যাপী এই সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে তাই সবার মাঝে বিরাজ করছে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অনাবিল আনন্দ।

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

বাঘাইছড়িতে পারফরমেন্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউশনস স্কিম শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত 

দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অর্ধশত পরিবার পেলে ইফতার সামগ্রী

চম্পাঘাট শিশু সদনের ছাত্রাবাস পুনঃসংস্কার ও খেলাধুলা সামগ্রী বিতরণ করলেন রিজিয়ন কমান্ডার ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

মহালছড়ি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

বাঘাইছড়িতে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবকদলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

৭ মার্চ উপলক্ষে নানিয়ারচরে নানান প্রতিযোগিতা

মানিকছড়িতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কাউখালীর সুমেত চাকমা নিহত

সাদা মনের মানুষ তিলোকানন্দ ভান্তের মৃত্যুতে কেইউজে’র শোক

বন্যহাতি  হতে সর্তক থাকতে  কাপ্তাইয়ে বন বিভাগের  সতর্কতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন 

কেপিএম কয়লার ডিপু এলাকায় আগুনে পুড়ল বসতবাড়ি

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: