টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা ও সড়ক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস নামায় সারাদেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি যাত্রী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তিও চরমে পৌঁছেছে।
উপজেলা সদরের পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টারপাড়া, মধ্যমপাড়া, কলেজপাড়া, হাজীপাড়া ছাড়াও বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব লাইল্যাঘোনা, আমতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা, বঙ্গলতলী, রূপকারী ও সারওয়াতলী ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাঘাইছড়িতে মোট ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার ২৪৮ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৩ কিলো নামক স্থানে ধস নামায় সারাদেশের সঙ্গে বাঘাইছড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে শুধু বাঘাইছড়িই নয়, আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবন-জীবিকাও ব্যাহত হচ্ছে। গত দুই দিন ধরে মালামালবোঝাই বেশ কয়েকটি ট্রাক সড়কে আটকা পড়ে আছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আগত যাত্রীদের পাশাপাশি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলা সদরে যাতায়াতকারী যাত্রীরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সড়ক ধসের কারণে যাত্রীদের ধস পর্যন্ত পৌঁছাতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে শ্রমিকের মাধ্যমে মালামাল নামিয়ে ধসে পড়া অংশ পার করে পুনরায় অন্য যানবাহনে তুলতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বাঘাইছড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হলে বাজারে পণ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন অসুস্থ রোগী, জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও চালকেরা।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বন্যাদুর্গত ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের মাঝে খিচুড়ি, শুকনো খাবার এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন। ত্রাণ বিতরণকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শুপ্তশ্রী সাহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


















