পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন- কোভিড-১৯ মহামারী আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে যে- স্বাস্থ্যসেবা কেবল রোগীর চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; স্বাস্থ্যকর্মী, সাধারণ জনগণ এবং আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য সংক্রামক বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনাও সমানভাবে অপরিহার্য। সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্য ঝুকি অনেকাংশ হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, ভৌগোলিক দূরত্ব, জলবায়ুগত ঝুঁকি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, তিন পার্বত্য জেলার ২৬টি সরকারি হাসপাতালে উন্নত সংক্রামক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপন নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী সাফল্য। তিনি এরই কারনে হাসপাতালে দায়িত্বরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ড কর্মী, নার্স এবং টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ, সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রদানের মাধ্যমে একটি মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা হয়েছে| তিনি এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবহার সঠিকভাবে ধরে রাখার জন্য স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
তিনি সোমবার(২৭ এপ্রিল) বিকেলে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে বর্জ্য শোধনাগারের উদ্বোধনী অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান আরো বলেছেন,বর্তমান সরকারের উন্নয়নের নীতির সাথে বিভিন্ন সহযোগী উন্নয়ন সংস্থাগুলোও স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে। কাউকে পেছনে ফেলে নয়—এই নীতির অধীনে নারী কর্মী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে আমাদের অগ্রগতিতে অবদান রাখছে। হাসপাতাল গুলোতে অটোক্লেভ এবং মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তি স্থাপনের ফলে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। এর কারনে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলবে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুস্টিত উক্ত অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা.নূয়েন খীসা। এতে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশস্থ কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং,বাংলাদেশস্থ জাপান দূতাবাসের মন্ত্রী ও উপ-মিশন প্রধান তাকাহাশি নাওকি, ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক(এডিবি)’র কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং। অনুষ্টানে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, নার্সসহ বিভিন্নস্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য জাপান সরকারের অর্থায়নে ‘বাংলাদেশে সংক্রামক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে সংক্রামক বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা হয়েছে।


















