শনিবার , ১৩ জুন ২০২৬ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

কল্পনা চাকমা কি নিখোঁজ? না-কি আত্মগোপন! পাহাড় কেন উত্তাপ্ত হয় বার বার?

প্রতিবেদক
বিশেষ প্রতিবেদক
জুন ১৩, ২০২৬ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যেগুলো সময় পেরিয়ে গেলেও মুছে যায় না। কল্পনা চাকমার নিখোঁজ বা আত্মগোপন হওয়া তেমনই একটি ঘটনার উদাহরণ। সব মিলিয়ে পাহাড় যেন বার বার উত্তাপ্ত করবার এক চাবি হলো কল্পনা চাকমা কোথায়? বছরের পর বছর চলে আন্দোলন অবরোধ চলছে, হদিস দিতে পারেনি কেউ। তবে কি আত্নগোপনে কল্পনা?

ঘটনাটি তিন দশক আগে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের পর থেকে আজ পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি ফিরেও আসেনি। প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এই ঘটনা রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও জাতিগত প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছিলো। নিখোঁজ হওয়ার প্রেক্ষাপট, পাহাড়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা, রাষ্ট্রের অবস্থান এবং চলমান বিতর্ক চলছে যুগ যুগ ধরে।

কল্পনা চাকমা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন নৃ-গোষ্টীর নারী নিজেকে অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এক তরুণী ছিলেন পাহাড়ে। তিনি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছিড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পাহাড়ি ছাত্র ও নারী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সক্রিয় থাকতেন। সে সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তার কার্যক্রম কিছুটা আলোচিত ছিল। তবে কে বা কারা অপহরণ করেছে বা সে কি আত্নগোপনে গেছে তার কোন অস্থিত পাওয়া যায় নি।

১৯৯৬ সালের ১২ জুন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে, কল্পনা চাকমাকে তার বাড়ি থেকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যায় এমন অভিযোগ তার পরিবারের, তবে পাহাড়ের সংঘাতে সশস্ব গোষ্টী তুলে নিয়েছে। তবে কোন সশস্ত্র গোষ্ঠী তুলে নিয়েছে তা নিদিষ্ট করেনি তার পরিবার। পরিবার ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দাবি করে, এটি একটি অপহরণ ঘটনা। তবে এর দায়ভার রাষ্ট্রের উপর দিলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং রাষ্ট্র একটি মামলা গ্রহণ করে কল্পনাকে চাকমা উদ্ধার এর জন্য। তবে যাকে উদ্বারে রাষ্ট্রের এতো চেষ্টা তাকে যখন পাওয়া যাচ্ছে না তখন আদৌ কি কল্পনা চাকমা অপহরণ না-কি আত্নগোপন সে প্রশ্ন সাধারন মানুষের।

কল্পনা চাকমার নিখোঁজ হওয়ার সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। এই আন্দোলনের রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিল পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতি। পরে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ও জেএসএসের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি যা দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কল্পনা চাকমার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে এই শান্তিচুক্তির এক বছর আগে। যখন পাহাড়ে সহিংসতা তীব্র ছিল। এই প্রেক্ষাপট ঘটনাটিকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক হাতিয়ার করা হয়েছে। ঘটনার এক বছর পর শান্তিচুক্তি হলো তখন কেন তারা কল্পনা চাকমাকে ফেরত চাইলো না? সব জেনেশুনে মেনে নিয়ে চুক্তিতে বসলো। তবে ঘটনার সত্যতা আজও প্রকাশ্যে আসে নাই।

ঘটনার প্রায় ২৮ বছর পর ২২ এর্প্রিল রাঙামাটির একটি আদালত বহুল আলোচিত কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে। আদালত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। পরে কল্পনা চাকমার পরিবার তদন্ত রির্পোট সন্তোষজনক না মনে করে পুলিশি প্রতিবেদনকে চ্যালেঞ্জ করে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দায়ের করা একটি অনাস্থা আবেদনও করে। তবে তার পক্ষে কোন যুক্তি দেখাতে না পারায় আদালত আবেদনটিকে খারিজ করে দেয়।

তদন্ত শেষ করতে পুলিশের প্রায় ১৪ বছর সময় লেগেছিল। তারা ২০১০ সালের ২১শে মে প্রথম চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তার পরিবার প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করায়, আদালত আরও তদন্তের জন্য এটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠায় এবং সিআইডি ২০১২ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর একটি অনুরূপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। কল্পনার পরিবার আবারও প্রতিবেদনটি গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে, মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য রাঙামাটির তৎকালীন পুলিশ সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জেলা থেকে এসপিদের বদলির সাথে সাথে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাও পরিবর্তিত হন। অবশেষে মামলাটি এসপি সৈয়দ তারিকুল হাসানের হাতে আসে। তিনি এর ৩৯তম তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে মামলাটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ২০১৬ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর সর্বশেষ চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেন।

সেই বছরের নভেম্বরে, কালিন্দী প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে আদালতে ‘অনাস্থা’ আবেদন দাখিল করেন। তবে বার বার রাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা শুধু একটি সন্তোষজনক প্রতিবেদন যে খালি তাদের পক্ষেই যাবে এমন কোন বিধিনিষেধ কি আছে? আইন আদলাত প্রমান চায়। প্রমান থাকার পর প্রশাসন সেটিকে অবজ্ঞা করবে না বরং এই ধরনের অনাস্থা শুধুই প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করে। গত কয়েক বছরে, আবেদনটির ওপর বেশ কয়েকটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: