বৃহস্পতিবার , ৫ নভেম্বর ২০২৬ |
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. চট্টগ্রাম
  6. আইন ও অপরাধ
  7. রাজনীতি
  8. পর্যটন
  9. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  10. এক্সক্লুসিভ
  11. অর্থনীতি
  12. এনজিও
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. উন্নয়ন খবর
  15. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  16. খোলা জানালা
  17. কৃষি ও প্রকৃতি
  18. প্রযুক্তি বিশ্ব
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. লাইফ স্টাইল
  21. সাহিত্য
  22. অন্যান্য

দীঘিনালার হাজাছড়া বিলে শাপলার দ্যুতি স্বপ্ন দেখাচ্ছে পর্যটনের: মন জুড়াচ্ছে দর্শণার্থীদের

প্রতিবেদক
বিশেষ প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি
নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

‘শাপলা’ আমাদের জাতীয় ফুল হলেও বছরের নির্ধারিত সময় ছাড়া এই ফুলের দেখা মেলা ভার। দেশের কম বেশি সব জায়গায় এই সময়ে শাপলার দেখা মিললেও একসাথে দিগন্ত-বিস্তৃতভাবে চোখ জুড়ানো শাপলার বিল এখন খুবই বিরল। তেমনই একটি জলমগ্ন বিলে লাল শাপলার রাজ্য গড়ে উঠেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায়। উপজেলা সদর থেকে যে কোন যানযোগে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মেরুং বাজার। সেখান থেকে পূর্বদিকে মাইনী নদী পেরিয়ে আধা কিলোমিটার গেলেই হাজাছড়া বিল। কাপ্তাই বাঁধ অধিকৃত এই বিলের বিশ একরজলমগ্ন অংশের পাঁচ/সাত একরজুড়ে চোখে পড়বে শুধু শাপলা আর শাপলা।

বছরের বেশিরভাগ সময় জলমগ্ন থাকে বিধায় স্থানীয়দের কাছে এটি ‘ছোট হাজাছড়া ডেবা’ নামে পরিচিত। লাল শাপলার অপরূপ সৌন্দর্যে বিলটি এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় কোনো শিল্পীর নিপুণ হাতে তৈরি লাল-সবুজের নকশি কাঁথা। শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় ও উপজেলাবাসী। বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিলে শাপলা ফুল ফোটে। প্রায় ২০ বছর ধরে এখানে শাপলা ফুল ফুটলেও গত দুই বছর ধরে বিলটি দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। চলতি বছর দর্শনার্থীদের আগমন বেড়েছে দ্বিগুণ। শাপলা’র সাথে সাথে এই বিলে নানা রঙের-বর্ণের পাখি-পোকামাকড়-প্রজাপতিরও সমাগম ঘটে। নিরিবিলি সময়ে অতিথি পাখিও দেখেছেন এলাকাবাসীরা।

স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী ও সংবাদকর্মী জাকির হোসেন জানান, হাজাছড়া বিলটি যেনো এক শিল্পীর রংতুলিতে আঁকা ক্যানভাসের মতোই দেখাচ্ছে। ভোরের আলোয় যখন নরম রোদের সাথে তেজ বাড়তে; ঠিক তখুনিই ফুটে ওঠে শাপলা’র বর্ণচ্ছটা। তখন মুগ্ধতায় ভরে ওঠে মানুষের দুইচোখ। শাপলার পাঁপড়ির উপরে জমা শিশির বিন্দুতে রোদের ছায়া শিশির কণাগুলো মুক্ত কণার মতো লাল শাপলার সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ করে তুলছে।

উদ্ভিদবিজ্ঞানের তথ্যমতে, লাল শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea rubra। এটি শাপলা পরিবারের একটি জলজ উদ্ভিদ, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা হাজাছড়া শাপলা বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ তৈরি করছেন রিলস-টিকটক আর ভিডিও কনটেন্ট। কেউবা বিলের পানিতে হাত-পা ডুবিয়ে পানি ছিটিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেন। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে হারিয়ে যাচ্ছেন লাল শাপলার রাজ্যে।

প্রকৃতিপ্রেমী তরুণ ফটোগ্রাফার হাসান আল মামুন জানান, বিলটিতে সাঁতার কাটতে থাকা রাজহাঁস, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, দুরন্ত বালকদের গোসলের ফাঁকে ফাঁকে লাফালাফি আর শাপলা তুলে গ্রামীণ মেঠোপথ ধরে বাড়ি ফেরার দৃশ্য বাংলার চিরায়ত গ্রামীণ দৃশ্যকেই প্রতিফলিত করে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো: সালাউদ্দিন জানান, শুধু সৌন্দর্য উপভোগ নয়, স্থানীয়দের জীবিকার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই হাজাছড়া শাপলা বিল। শাপলা সবজি হিসেবে অনেকের প্রিয়। এখানকার শাপলা অনেকেই বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পাশাপাশি নিজেদের খাদ্যের চাহিদাও মেটান অনেকে। কেউ কেউ বিল থেকে মাছ ধরেন। কমবেশি সারা বছরই বিলে পানি থাকে। তবে শুকনো মৌসুমে বিলের কিনারার পানি শুকিয়ে গেলে সেখানে ধান চাষ করেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয় যুবক আহম্মদ আলী বলেন, বিলটির অবস্থান খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা আর রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সংযোগস্থলে। ফলে দুই উপজেলার সব সম্প্রদায়ের মানুষই এই বিলের অপরূপ প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন। সড়ক লাগোয়ো হওয়ায় স্থানীয় মানুষরাও আমরা প্রায়ই বিলের পাশে এসে বসে থাকেন। বিলের লাল শাপলা ও বিস্তীর্ণ জলরাশি দেখে মুগ্ধ হন।

বাঘাইছড়ি কলেজের শিক্ষার্থী মানবিকা চাকমা জানান, শীত মৌসুমে দীঘিনালা-লংগদু এবং খাগড়াছড়ি আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে হাজাছড়া হয়ে মেরং সড়কটিই সহজপথ। তাই বিশেষ করে তরুণ’রা ‘হাজাছড়া ডেবা’র শাপালা দেখার একটি বাড়তি মজা নিতে বাইকে বেশিরভাগ সময় এই পথেই স্বস্তি বোধ করেন।

তিনি জানান, তাঁরা ছবি তুলেছেন, ভিডিও করেছেন এবং শাপলা বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন। এসব দেখে দারুণ অনুভূতি কাজ করে।

জেলার মাইসছড়ি থেকে প্রায় ৪০ জন ঘুরতে নিয়ে এসেছিলেন মো: হালিম। তিনি জানান, পাহাড়ে হ্রদভর্তি পানি থাকলে শাপলা নেই। হ্রদে কচুরিপানার অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ। তামাক চাষের কারণে জলদুষণ বাড়ছে। এমন একটি শাপলা বিল সত্যিই টিকে থাকা দরকার।

তিনি আরও বলেন, শাপলা ফুলের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে সকালবেলা আসতে হবে। কারণ সকালবেলাতেই শাপলাফুল ফুটে থাকে।

শাপলা বিলের মালিক দীঘিনালা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম দুলাল বলেন, এখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি জেলা ও জেলার বাইরের অনেক মানুষ ঘুরতে আসেন। তাঁদের আগমন দেখে আমাদের ভালো লাগে। যাঁরা ঘুরতে আসেন, তাঁদের জন্য পাড়ে নৌকা বাঁধা আছে। নৌকায় করে তাঁরা ঘুরে বেড়ান। কারও জন্য কোনো বাধা নেই। কেউ কেউ আবার এখান থেকে শাপলা তুলেও নিয়ে যান।

ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে শাপলা বিলটিতে একটি ভাসমান রেস্টুরেন্ট, একটি ওয়াচ টাওয়ার, ওয়াশরুম করার ইচ্ছে আছে। দর্শনার্থীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে শাপলা বিলে ঘুরতে পারেন, সে জন্য একটি প্যাডেল বোট নামানোর কথাও ভাবছি।

দীঘিনালা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. আবুল খায়ের বলেন, লাল শাপলা (Nymphaea rubra) শাপলা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি জলজ উদ্ভিদ। এই ফুল সাধারণত রাতে ফোটে এবং আলোর তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে পাপড়িগুলো আসতে আসতে বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। বর্ষা ও শরৎকালে এ ফুল ফুটতে দেখা যায়। ক্ষেত্র বিশেষে এই সময়ের বাহিরেও লাল শাপলা ফুটে থাকে।একটি ফুলের সৌন্দর্য সাধারণত কয়েক দিন স্থায়ী হয়। জলাশয়ের পরিবেশ, পানির গভীরতা ও পুষ্টি উপাদানের ওপর শাপলার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফুল ফোটা নির্ভর করে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য এবং মেরুং ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মো: মোশাররফ হোসেন জানান, হাজাছড়া শাপলা বিলের মতো প্রাকৃতিক জলাশয়ে লাল শাপলার বিস্তৃতি পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আমরা এই এলাকায় পরিকল্পিতভাবে পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেরং-হাজাছড়া-মারিশ্যা সড়ক উন্নয়নে মনোযোগ দিয়েছি। এরমধ্যে আড়াই কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং হয়েছে। বাকীপথ উন্নয়ন শেষ হলে দর্শণার্থীদের জন্য জেলা পরিষদ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সিএইচটি বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ইনিশিয়েটিভ’র প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী ও রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, ‘হাজাছড়া’ বিলের শাপলার প্রকৃতি-পরিবেশ ও পুষ্টি সম্ভাবনা অনেক। এ ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও শাপলার স্বাভাবিক বিস্তার রক্ষা করা জরুরি।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা জানান, টুরিজমের বিকাশে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্বতন্ত্র নির্দেশনা রয়েছে। জেলার টুরিজমকে এগিয়ে নিতে জেলা পরিষদ দায়বদ্ধ। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সম্প্রসারণের জন্য হাজাছড়া বিল এলাকার অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে একটি প্রাণ-প্রকৃতিবান্ধব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। যার মাধ্যমে দর্শণার্থীরাও সুবিধা পাবেন, আবার এলাকার সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্যও সুরক্ষিত হবে।

 

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

মানিকছড়িতে পাড়াকেন্দ্র ভিত্তিক কমিউনিটি সংলাপ অনুষ্ঠিত

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

রুমা উপজেলা ছাত্রলীগের ত্রি-বার্ষিক সন্মেলন অনুষ্ঠিত

পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সাথে বৈধও যেন অস্ত্র অবৈধকাজে ব্যবহার করা না হয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

মুজিব সরকারের ভুল পদক্ষেপে পাহাড়িদের মনে সন্দেহের বীজ দানা বাঁধে

শামুক খুঁজতে গিয়ে নদীতে ডুবে নারীর মৃত্যু

রাঙামাটিতে ৩ বছরের শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার

কর্ণফুলি নদীতে তীব্র স্রোত:  ৫ দিন ধরে  চন্দ্রঘোনা- রাইখালী নৌ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত তরুণ উদ্যোক্তা জাহিদের স্বপ্ন

দীঘিনালায় এমএন লারমা’র ৮৫ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: