বুধবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২২ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

লংগদু আটারকছড়াবাসীর ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো

প্রতিবেদক
জিয়াউর রহমান জুয়েল, রাঙামাটি
জানুয়ারি ২৬, ২০২২ ৬:৪৭ অপরাহ্ণ

বাঁশের সাঁকোর দুর্ভোগ বন্ধে একটি পাকা সেতু চেয়ে আসছেন আব্দুর রহমান(৬৫)। ৪০ বছর ধরেই ধর্ণা দিয়ে যাচ্ছেন সবার দুয়ারে। শুধু আশ্বাসই মিলেছে মেম্বার-চেয়ারম্যান, নেতা-প্রশাসন, এমপি-মন্ত্রীর। সেতু বানানোর জেদ ধরে নিজেই হয়েছেন ওয়ার্ড মেম্বার। কিন্তু একা ‘ক্ষমতার বলয়’ ভাঙতে না পারলেও সম্প্রতি সাঁকো থেকে পড়ে ভেঙেছেন বুকের হাঁড়। এখন ‘কিছু করতে না পারা’র ব্যর্থতার আক্ষেপে পুড়ছেন। রাঙামাটি লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের এই মেম্বার বললেন-‘আল্লাহ চাইলে সেতু হবে একদিন, ততদিন হয়তো বেঁচে থাকবো না’।

একটি পাঁকা সেতুর অভাবে বছরের পর বছর নানান দুর্ভোগ পোহানো সেখানকার করল্যাছড়ি বাজারের ওপর নির্ভরশীল কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের একজন তিনি। দুর্গম পাহাড়ি এই জনপদের জীবনমান, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য যেন থমকে আছে বাজারটির সাথে যুক্ত নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকোয়। গ্রিষ্মকালে হেঁটে পার হওয়া গেলেও বর্ষায় নৌকা অথবা বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। পারাপার চলছে ঝুঁকি নিয়েই। শেষ নেই ভোগান্তিরও। ক্ষেত-খামারে উৎপাদিত ফসল ও রোগি পরিবহন করা যায় না সময় মতো।

চার দশকেও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই সেতু নির্মাণে। সম্প্রতি সাঁকো থেকে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যুতেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। নির্বাচনের সময় পাকা সেতুর প্রতিশ্রুতি দিলেও মনে রাখেনি কেউ। চলতি বছরেই সেতু নির্মাণ কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান। তবে আর প্রতিশ্রুতি নয়, এবার বাস্তবায়ন দেখতে চান দুর্গম এই এলাকার মানুষ।

সম্প্রতি গিয়ে দেখা গেছে, করল্যাছড়ি বাজারের মুখেই ওই বাঁশের সাঁকো। তবে দুই পাশে নৌ চলাচল অব্যাহ রাখতে বাজার প্রান্তে সাঁকো নির্মাণ না করে খালী রাখা হয়েছে। ফলে পা ভিজিয়েই এই বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বাজারে আসতে হয় আলুটিলা, মধ্যম আলুটিলা, ডাইনেছড়া গ্রাম, রেইনকাজ্যা আনসার ক্যাম্প, আটারকছড়াসহ আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে।

কিন্তু হেঁটে সাঁকো পার হওয়া গেলেও কৃষকদের উৎপাদিত পন্য, মৌসুমি ফল-ফসল, সবজি করল্যাছড়ি বাজারে নিতে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ দিয়ে পন্যের বিক্রিতে লোকসানে পড়ছেন কৃষক। এছাড়া স্থানীয় মাদরাসা ও করল্যাছড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থিকেও দৈনন্দিন যাতায়াত করতে হয় সাঁকো দিয়েই। প্রসুতি ও রোগি পরিবহন, নারী ও শিশুসহ বয়স্কদের সাঁকো পারাপারে মারাত্নক ঝুঁকিতে পড়তে হয়।

‘সাঁকো থেকে পড়ে দুই বাচ্চা মারা যাওয়ায় ভয়টা আরও বেশিই লাগে’ নিজের শংকার কথা বলছিলেন সাঁকোটি ব্যবহার করা আলুটিলা গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধু রহিমা বেগম(৩০)। বলেন, ‘ছেলেমেয়েকে মাদরাসা-স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে-পানিতে পড়ে ডুবে যায় কি-না। অনেক মানুষই অ্যাক্সিডেন্ট হয়’।

করল্যাছড়ি বাজার ব্যবসায়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী (৩৫) বলেন, ‘বিদ্যুৎ, সড়ক, গাড়ি থাকায় করল্যাছড়ি বাজার থেকে সড়কপথে কৃষিপন্য ঢাকায় যায়। কিন্তু বাঁশের সাঁকো দিয়ে পণ্য সরাসরি বাজারে নিতে না পারায় নৌকাভাড়া আর শ্রমিকের বাড়তি মজুরি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা’।

‘নির্বাচনের সময় সবাই পাকা সেতুর প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে মনে রাখে না কেউ’ বলছিলেন আবুল হাসেম লিডার(৭২)। বলেন, ‘রাঙামাটির মন্ত্রী-এমপি, ডিসি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান-ইউএনও করল্যাছড়ি বাজারে এসে বহুবার সেতু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কার দোষে যে হয় না, আল্লাহই ভালো জানে’। করল্যাছড়ি বাজার ব্যবসায়ি সমিতি সভাপতি নুর মিয়া বলেন, ‘এত প্রতিশ্রতির পরও আমরা পাকা সেতুতে উঠতে পারছি না! বাঁশের সাঁকোতেই পরে মরতেছি’।

জনদুর্ভোগ লাঘবে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের। লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু বলেন, ‘এমপি মহোদয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। সে তালিকায় ওই ব্রিজটা এক নম্বরে রেখেছেন’।

চলতি বছরেই সেতু নির্মাণ কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন, লংগদু উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল বারেক সরকার। বলেন, ‘করল্যাছড়ি বাজার সেতু নির্মাণে আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। সবকিছু করোনার কারণে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। অনুমোদন পেলেই এবছরই কাজ শুরু হবে’।

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

%d bloggers like this: