বুধবার , ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২২শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নে কৃষকদের স্বপ্ন বুনন

প্রতিবেদক
সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি, রাঙামাটি
ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ ৬:০১ অপরাহ্ণ

রাঙামাটির বিলাইছড়ি ফারুয়া ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে এবারেও বিভিন্ন জাতের শিম চাষ করছে কৃষকেরা। গত বছরের ন্যায় উপজেলা থেকে ফারুয়া নৌ-পথে যাওয়া সময় রাইংখ্যং খালের দুই-ধারে নিজ ও পতিত জমিতে শত শত একর জায়গায় চাষ করেছে এইসব শিম। তবে চাষ করছে  অন্যান্য সবজিও। সবুজ ফসলের বিপ্লব ঘটিয়েছে এখানকার কৃষকেরা। সবচেয়ে বেশি চাষ করেছে শীতকালীন এই গিল শিম। প্রতিবছর চাষ  করলেও এবছরে চাষ করেছে আনাচে – কানাচে প্রায় সব জায়গাতেই। অনেকে বলছেন শিমচাষে ভাগ্য বদলে দিতে পারে এখানকার মানুষের। খুঁটির মধ্যে বেঁধে দিয়ে সে-ই খুঁটি প্যাচিয়ে ঝোঁপঝাড় হয়ে সেই ঝোঁপে  অনেক শিম ধরে।

সরেজমিনে দেখতে গেলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি চাষ করছে  ফারুয়া ইউনিয়নে। না দেখলে কোনো দিনও বুঝা যাবে না যে, এত শিম চাষ করেছে সেখানে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে  হতে পারে বাম্পার ফলন। পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা। ফারুয়া ইউনিয়নে চাষ করেছে  চাইন্দা,উলুছড়ি, তক্তানালা, গো- ছড়া, চ-ছড়ি, ফু-ছড়া, রোয়াপাড়া ছড়া, আমকাটাছড়া, ওরাছড়ি,আবইমারা, যামুছড়া,লিত্তিছড়ি, গোয়াইনছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, তারাছড়ি,য মুনা ছড়ি, শুক্কুরছড়ি উপরে এলাকা সহ প্রায় এলাকাতে। তবে চাষ করা হয়েছে বিলাইছড়ি ইউনিয়নে কিছু কিছু এলাকাও। বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা জানান এই সিজনে প্রায় সব জমিতে শিম চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাদাম, সবজি চাষও করা হয় তলে তলে। এখনো অবস্থা ভালো রয়েছে। যদি রোগে না ধরে তাহলে গত বছরের মতো এবারে বেশি ফলন ঘরে আসবে।

তারা আরও জানান, ডিলার বা বাজার থেকে বীজ ক্রয় না করে নিজ জমিতে উঠা সবচেয়ে ভালো বীজগুলো পরবর্তী বছরে জন্য সংগ্রহ করে রাখেন। কৃষি অফিস থেকেও সহযোগিতা দিয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি  স্থানীয়দের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। রোগ-বালাই দমনের প্রয়োজন হলে কৃষি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে ওষুধ প্রয়োগ করা হবে। কৃষি অফিসাররা মাঝে মধ্যে আসেন বলেও জানান তারা।

এগুজ্যাছড়ি এলাকার জীবন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, এই শিমের বীজগুলো অন্য ফসলের চেয়ে আগে তুলতে পারি এবং একটু বেশি দামে বিক্রি করি। যা সহজে পঁচে না বলে এখান কার লোকেরা বেশি এই চাষ করেছে। তাছাড়াও যোগাযোগ ব্যবস্থা একটু উন্নতি হওয়ায় সহজে শহর থেকে ব্যবসায়ীরা নিজ এলাকায় এসে দর-দাম করে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, আগে তামাক চাষ করলেও  উপজেলা কৃষি অফিস ও এনজিও’র পরামর্শ ও সহযোগিতায় বেশ কয়েক বছর ধরে এই শিম ও সবজি  চাষ করছি। এবং বেশ লাভবান হয় বলে শিম চাষে আগ্রহ বাড়ছে। ইদুঁরের উপদ্রব কম। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকা চাষীরা জানান অবস্থা ভালো রয়েছে। তাছাড়া পরামর্শের জন্য দায়িত্বপ্রাস্ত কৃষি অফিসারা যাতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে। সেবিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগী কামনা করছি।

৩ নং ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা জানান,আজ থেকে ২০ বছর আগে এই জায়গাগুলো  যেদিকে তাকাই না কেন দুকুল জুড়ে শুধু নল খাগড়া আর নল খাগড়া । পরে তামাক কোম্পানিরা নল খাগড়া ধ্বংস করে তামাক চাষ করতো। এর পরে তামাক চাষকে নিশেষ ও নিরুৎসাহিত করা হলে তামাকের  পরিবর্তে মানুষেরা  কিছু কিছু এ-ই  শিম ও অন্যান্য সবজি চাষ  করতো।  তিনি আরও জানান,পর্যায়ক্রমে এই শিমের বিচি বা বীজগুলো বেশ বাজার জাত ও বিক্রয়ে চাহিদা এবং পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় দিনদিন চাষে আগ্রহ বেড়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরেও ব্যাপকভাবে চাষ করেছে। এছাড়াও এই এলাকা সাধারণ মানুষের একমাত্র আয়ের উৎস হচ্ছে  শিম চাষ। সীমান্ত সড়ক হওয়াতে সহজে পরিবহন ও বিক্রি করতে পারে।

সম্প্রতি পরিদর্শনে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক জানান, গিল শিম ৭৮, চিনাবাদাম ৬৫, সবজি ২২৬, ফরাস শিম ৩০ হেক্টর মত জয়গায় চাষ করছে। আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাছাড়া আমরা জনবল একটু কম।থাকার কথা ১২ জন  রয়েছে মাত্র ৫ জন। যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে আমরা সাথে সাথে পদক্ষেপ নিবো। তিনি আরও জানান, পাহাড়ে চলছে এক নীরব কৃষি বিপ্লব। যেখানে একসময় কৃষি বলতে কেবল তামাক চাষকে বোঝাত, সেখানে এখন কৃষির যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। বর্ষাকালে একসময় যে ভূমি পানিতে তলিয়ে থাকত, তা যেন আজ নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। শিম ও বাদাম চাষ যেমন প্রকৃতির রূপ-লাবণ্যকে সমৃদ্ধ করছে, তেমনি পাহাড়ের অর্থনীতিতে নিয়ে আসছে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি। খুব কাছ থেকে দেখে আসলাম এই কৃষি বিপ্লব। কৃষক ভাইদের সাথে আলাপচারিতায় উঠে এলো উৎপাদিত পণ্যের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও বাজারজাতকরণের নানা অসুবিধার কথা।

​আমরা গিয়েছিলাম বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নে, যেখানে কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। অথচ সেই দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে কৃষির এই বিপ্লব যেন সমতলের কৃষিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছে। ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের মান্যবর উপজেলা কৃষি অফিসার রাজেশ প্রসাদ রায় স্যারকে, যিনি এত সুন্দর একটি সফরের আয়োজন করেছেন। তিনি খুব কাছ থেকে কৃষকদের সমস্যার কথা শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

আরও কৃষি কর্মকর্তা রাজেশ প্রসাদ রায় জানান, প্রত্যেক সিজনে প্রণোদনা দিয়ে থাকি।উঠান বৈঠক করা হয়েছে। সেগুন গাছকে আমরা নিরুৎসাহিত করছি। কারণ সেগুন গাছ পানির শোষণ ক্ষমতা বেশি। যা দীর্ঘমেয়াদী এবং পানি উৎসকে ধ্বংস করে। পানির স্তরকে নীচে নামিয়ে ফেলে। ১৮ ইঞ্চি একটি চারা ২ দিনে ১ কাপ পানি শোষণ করতে পারে। যার ফলে পানির উৎস না থাকলে পাহাড়ের ডালে বসবাসের অনুপযোগী হবে। সেজন্য ফলজ, বনজ ঝোপঝাড় বৃক্ষ ও শাক- সব্জি চাষ করলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হওয়া যায়।তার প্রমাণ দেখিয়েছেন ফারুয়ার কৃষকরা।

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

দীঘিনালায় দুর্গোৎসবে সেনা জোনের সমন্বয় সভা

রাঙামাটিতে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় আসামিকে মৃত্যুদন্ডাদেশ

সাজেকে ভূমি বেদখলের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ সমাবেশ

রামুতে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

জমির বিরোধ মীমাংসায় সফলতা পাচ্ছে লিগ্যাল এইড অফিস

খাগড়াছড়িতে বৌদ্ধমূর্তি, বিদেশী সিগারেট, ভারতীয় শাড়ি ও লুঙ্গী জব্দ, এস.এ পরিবহনের তিন কর্মকর্তা আটক

নানিয়ারচরে কিশোর কিশোরীদের অভিভাবকদের নিয়ে কর্মশালা

কাপ্তাইয়ে যুব ও কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহালছড়িতে বাঁশরি ওয়াদুদ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট বাতিলের দাবীতে কাপ্তাইয়ে মানববন্ধন

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: