রাঙামাটিতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি প্রাণনাশ ও অন্যান্য সম্পত্তি দখলের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী জমির মালিক।
আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের বনরূপা এলাকার আয়োজন রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জমির মালিক হাজী মোঃ শামসুল ইসলাম এসব অভিযোগ করেন।
এসময় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার পৈত্রিক সম্পত্তি বৈধ দখলে থাকলেও সম্প্রতি বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রকাশ্যে জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পরর্বতীতে পুলিশ উভয় পক্ষকে সতর্ক করলেও অভিযুক্তরা পুনরায় দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
তিনি জানান, রাঙামাটির রিজার্ভ বাজারের পুরান পাড়া এলাকায় পৈত্রিক জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চলছে। জমির উদ্দিনসহ বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী তার জমি দখলে নেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি তিনি জেলা বিএনপি ও কোতোয়ালি থানায় অবগত করলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বিএনপি নেতারা কাজ স্থগিত রাখতে বলার পরও তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি, জমির উদ্দিন, রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এমদাদ হোসেন মানিক, জেলা যুবদলের সদস্য মোঃ নিজাম উদ্দিন, মোঃ রুবেল, মোঃ ফজলু রহমান, রাজু আহম্মদ খোকন, মোঃ সোহাগ, কামাল উদ্দিন ও জয়নাল উদ্দিনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এমদাদ হোসেন মানিক বলেন, তারা কোনো জমি দখলের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি নিজেকে শাপলা যুব কল্যাণ সংঘ ক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে বলেন, জমির উদ্দিন নামে একজন তাদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন- যে তাকে নিজ জমিতে ঘর তুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানতে গিয়ে তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন মাত্র। তিনি আরও বলেন, আমাদের নামে যে জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এলাকাবাসীর কাছে খোঁজ নিলেই প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবেন।
অপর অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিনও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমির উদ্দিন তার নিজ জমিতে ঘর তুলতে পারছেন না এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। জমি দখলের অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদেরও সরাসরি হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে একটি সমঝোতা করে দেওয়ার চেষ্টা করবো।


















