রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম কুক্যাছড়ি খিয়াং পাড়ার দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার দশক ধরে এলাকার মানুষ পাহাড়ি ঝিরির ওপর নির্ভর করে দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণ করে আসছেন।
জানা গেছে, কুক্যাছড়ি খিয়াং পাড়ার বাসিন্দাদের প্রতিদিন প্রায় ৪০০ ফুট নিচে নেমে ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। দুর্গম পাহাড়ি পথ দিয়ে পানি আনতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অতীতে এ পথে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে।
এলাকার এই দীর্ঘদিনের সমস্যার বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলালের নজরে আনেন রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনি। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৭ জুন) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রেজাউল করিম, পরিষদ সদস্য প্রতুল দেওয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খিয়াং পাড়া পরিদর্শন করেন এবং পানির উৎসস্থল ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রেজাউল করিম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল বিষয়টি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সরজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছি। ঝিরি থেকে সোলার চালিত মোটরের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে স্কুলের ছাদে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এতে ৫০ টি পরিবার সুপেয় পানির সুবিধা পাবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় খিয়াং সম্প্রদায় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলালহেলাল এবং রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কয়েক দশকের পানির সংকটের অবসান ঘটবে এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা পাবে। পাশাপাশি তারা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিও কামনা করেছেন।


















