এলপিজি সংকটে বিপর্যস্ত রাঙামাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা।জ্বালানি তেলের কোনো সংকট না থাকলেও দেশের একমাত্র রিকশাবিহীন জেলা শহর রাঙামাটিতে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে না। ফলে পর্যটক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সিএনজি না পেয়ে অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে জেলার স্বাভাবিক দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে রাঙামাটিতে সিলিন্ডার গ্যাসের পাশাপাশি এলপিজি গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে, যা বর্তমানে তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলার তিনটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে গত ১১ জানুয়ারি সীমিত পরিসরে কেবল ভেদভেদি এলাকার মেসার্স মা পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনে স্বল্প পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেলেও বর্তমানে তিনটি স্টেশনেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
সিএনজি চালকরা জানান, শহরে কোথাও গ্যাস পাওয়া না যাওয়ায় তারা গাড়ি চালাতে পারছেন না, যদিও প্রতিটি সিএনজিতে জ্বালানি তেলের সংযোগ রয়েছে। তেল ব্যবহার করে গাড়ি চালানো প্রসঙ্গে চালকরা বলেন, এলপিজির তুলনায় তেলের দাম বেশি হওয়ায় বর্তমানে তেল দিয়ে সিএনজি চালানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
২০২২ সালের আগস্ট মাসে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিএনজি ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সে সময় ৮ টাকার ভাড়া ১০ টাকা, ১২ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা, ২০ টাকার ভাড়া ২৫ টাকা এবং ২৪ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ভাড়া ৩০ টাকা নির্ধারণ করে নতুন ভাড়ার তালিকা কার্যকর করা হয়। এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল মূলত জ্বালানি তেলের মূল্য বিবেচনায় রেখেই।
সেই হিসেবে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট না থাকায় সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, তেলের দামের ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ হলেও বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৯৯ শতাংশ সিএনজি এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করে চলেছে।
যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, তেলের দামের ভিত্তিতেই তারা দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া দিয়ে আসছেন, অথচ বাস্তবে অধিকাংশ সিএনজি কম দামের এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করছে। দীর্ঘ সময় গ্যাস দিয়ে চলার পর এখন সংকটের অজুহাতে সিএনজি চলাচল বন্ধ রাখা অযৌক্তিক বলেও মনে করছেন তারা। যাত্রীদের মতে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অন্তত জ্বালানি তেল ব্যবহার করে সিএনজি চলাচল সচল রাখা যেত।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের আগস্টে ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে সিএনজি চালকরা কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ধর্মঘট শুরু করলে সাধারণ মানুষকে টানা ৭২ ঘণ্টা চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে সংকট নিরসন হয়। ওই বৈঠকে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে পৌর মেয়র আরব হোসেন চৌধুরী, রাঙামাটি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পরেশ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু এবং আদিবাসী অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বিপাশ চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
সাধারণ যাত্রীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি এলপিজি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হয় এবং সিএনজি চলাচল চালু না করা হয়, তাহলে রাঙামাটি শহরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে।


















