খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড়ে সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ঈদ উপহার, আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) রামগড় বিজিবি জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সহায়তা প্রদান করা হয়। রামগড় জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে রামগড় উপজেলার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত গরিব ও অসহায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি পরিবারের সদস্যদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ঈদের আনন্দ যাতে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিজিবির পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়াও স্থানীয় একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সিলিং ফ্যান প্রদান করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ালেখা করতে পারে। একটি মসজিদের নির্মাণকাজে সহায়তার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অসুস্থ ও দরিদ্র কয়েকজন ব্যক্তির চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এই উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।
তারা জানান, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত অনেক মানুষের পক্ষে চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সময়ে বিজিবির এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করে।
বিজিবি সূত্র জানায়, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষা সহায়তা, চিকিৎসা সেবা, ত্রাণ বিতরণ, কৃষি সহায়তা, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাহিনীটি সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে।
জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম জানিয়েছেন, দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত গরিব ও অসহায় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বিজিবির এই উদ্যোগ সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


















