বিরূপ আচরণ যেন মানবিকতার পথ রুদ্ধ করতে পারেনি। টানা দুই দিনের কালবৈশাখী ঝড় উপেক্ষা করেই খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুধবার (২৯ এপ্রিল) খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি জোনের আওতাধীন কমলছড়ি হেডম্যান পাড়ায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে মহালছড়ি সেনা জোন।
দুর্গম এই পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় ঝড়ের সময় সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষজন চিকিৎসার জন্য উপজেলা বা জেলা শহরে যেতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েন। এমন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
দিনব্যাপী এই চিকিৎসা ক্যাম্পে প্রায় ৩ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ঔষধও সরবরাহ করা হয় বিনামূল্যে। শিশু, নারী ও বয়স্ক রোগীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সাধারণ জ্বর-সর্দি, চর্মরোগ, গ্যাস্ট্রিক, ব্যথাজনিত সমস্যা ছাড়াও বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। অনেকেই বলেন, “ঝড়ের কারণে আমরা কোথাও যেতে পারছিলাম না। সেনাবাহিনী নিজেরাই আমাদের কাছে চিকিৎসা নিয়ে এসেছে এটা সত্যিই অনেক বড় সহায়তা।
মহালছড়ি জোনের আরএমও ক্যাপ্টেন বোরহান উদ্দিন বায়েজীদ বলেন,প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে চিকিৎসা সেবা থেকে তারা বঞ্চিত হন। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।সেনাবাহিনী সবসময়ই সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে এবং দেশের যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।
৫ ফিল্ড এ্যাম্বুলেন্স এর আরএমও ক্যাপ্টেন লাবনী জামান বলেন, অনেক রোগী দীর্ঘদিন চিকিৎসার বাইরে ছিলেন। এই ক্যাম্পের মাধ্যমে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য খুবই উপকারী।
মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী জানান, পাহাড়ি এলাকার প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সেনাবাহিনী ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, দুর্গম এলাকায় নিয়মিত এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ হবে।


















