রাঙামাটি জেলা শিক্ষা অফিসার সরিৎ কুমার চাকমা বলেছেন, সর্বশেষ এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাঙামাটিতে নিয়োগ পাওয়া সব শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিয়োগ পাওয়া অনেক শিক্ষক ভৌগোলিক দুর্গমতা, স্বল্প বেতন ও দূরত্বের কারণে কর্মস্থলে যোগ দেননি। আজ রোববার সকালে জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)–টিআইবি আয়োজিত শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক এক অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য শিক্ষক নিয়োগে স্থানীয় অধিবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে এ অঞ্চলের শিক্ষক সংকট অনেকটাই দূর হতে পারে।
সনাক সভাপতি প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমার সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর বেনজিন চাকমা। সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সনাক সদস্য ও শিক্ষা উপকমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক গৈরিকা চাকমা।
সভায় ‘প্যাক্টা’ প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে দুর্নীতি হ্রাস এবং সেবাদান কার্যক্রমে শুদ্ধাচার বৃদ্ধি করাই এ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি ও পরিবেশ (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) খাতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সভায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক টয়লেট ও নারী-বান্ধব কর্নার স্থাপন, ফার্স্ট এইড বক্স রাখা, এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার বাড়াতে পরিকল্পনা গ্রহণ, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে হোম ভিজিট বা ফোনে যোগাযোগ করা এবং তা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ রাখা।
এছাড়া শিক্ষক সংকট নিরসনে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষক পদে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া, বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অভিভাবক-শিক্ষার্থী সুসম্পর্ক জোরদার করা, কাপ্তাই হ্রদের দূষণ রোধ, প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব ও ইভটিজিং প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় জেলা শিক্ষা অফিসার সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমা বলেন, সনাক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন ও একতাবদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। প্যাক্টা প্রকল্পের আওতায় অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি) তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

















