বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করে তুলতে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার সমাপনী দিনে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নৃত্য ও অভিনয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় উপজেলার ৫৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
এর আগে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনকালে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির কবি। শিশুদের মাঝে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের চর্চা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। তাই তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে নজরুলচর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।”
কাপ্তাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেলী রুদ্র, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর জিন্নাতুন নাহার, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আঁখি তালুকদার, অভিনেতা আনিছুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন কাপ্তাই সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, কাপ্তাই খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ ঘোষ, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আঁখি তালুকদার, অভিনেতা আনিছুর রহমান, নৃত্যশিল্পী সুপর্ণা বাড়ৈ এবং সঙ্গীতা দত্ত এনি।
দুই দিনের এ আয়োজনে কবিতা, গান, নৃত্য, অভিনয় ও চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। নজরুলের কবিতার শব্দ, গানের সুর ও শিল্পের নানা মাধ্যমে শিশুরা তুলে ধরে সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনা।
আয়োজকদের মতে, প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও দর্শনের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত হবে।


















