হ্রদ পাহাড়ের পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে তীব্র শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিগত সময়ে সারাদেশে শীতের তীব্রতা বেশি থাকলেও রাঙ্গামাটি জেলার জনসাধারন এতো বেশি শীত অনুভব করেনি। গত কয়েকদিন ধরে দুপুর পর্যন্ত দেখা মিলছে না সূর্যের। দুপুরের দিকে সূর্য সামান্য উঁকি দিলেও তেজ নেই।
গত সোমবার সারাদিনেও দেখা মেলেনি সূযের,তবে মঙ্গলবার সকাল এগারটার সময় সুর্যেও দেখা মিললেও ছিলো ঠান্ডা বাতাসের তীব্রতা। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি অব্যাহত রয়েছে। আর এই শীতে রাস্তার আশে পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসহায় দুঃস্থ্য শীতার্থদেও মাঝে মধ্য রাতে কম্বল নিয়ে হাজির হয়েছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হাবিবে আজম।
গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে শীতার্থদের কম্বল বিতরন করেন তিনি। মধ্যরাতে শীতের তীব্রতায় মানুষ যখন গভীর ঘুমে তখন তিনি ছুটে গিয়েছেন অসহায়দের পাশে। এসব শীতার্থরা কম্বল পেয়ে বেশ খুশী। তাদের মতে তীব্র এই শীতের মধ্যে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে।
এ ব্যাপারে হাবিব আজমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ইতি পূবে রাঙ্গামাটিতে এ ধরনের শীতের তীব্রতা ছিলনা। এবার শীতের তীব্রতা অনেক বেশি এছাড়া সামাজিক দায়বন্ধতা থেকে শীতার্থদের মাঝে এসব কম্বল বিতরন করা হয়েছে। তিনি এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শীতার্থদের সাহায্যে বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।
তীব্র শীতে তাপমাত্রা কমে আসায় রাঙ্গামাটি জেলা সদর হাসপাতাল সহ উপজেলার হাসপাতাল গুলোতে বেড়েছে শিশু রোগীর সংখ্যা। বহিঃবিভাগে দেখা গিয়েছে শিশু রোগীর দীর্ঘ লাইন। অধিকাংশ শিশু জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও চর্মরোগের চিকিৎসা নিতে আসছে। প্রতিদিন শিশু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তীব্র শীতের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ ছুটছে পথের পাশে অল্পদামে শীতের পোশাক কিনতে।
রাঙ্গামাটি আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক ক্যচিনু মারমা জানিয়েছেন সোমবার ১১.০৬ ও মঙ্গলবার ৯.০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাঙ্গামাটিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শওকত আকবর বলেন, এই সময়টাতে বায়ুমন্ডল শুষ্ক থাকে; শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে ফলে জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, নিউমোনিয়া ও শীতকালীন ডায়রিয়ায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। আমরাও এসব রোগী সামাল দিতে প্রস্তুতি রয়েছে।


















