মঙ্গলবার , ২২ মার্চ ২০২২ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

রাঙামাটি বান্দরবান সীমান্তে গোলাগুলিতে নিহত ৩

প্রতিবেদক
হিমেল চাকমা, রাঙামাটি
মার্চ ২২, ২০২২ ১০:২৪ অপরাহ্ণ

রাঙামাটির রাজস্থলীতে সন্ত্রাসী দলের দুপক্ষের বন্দুক যুদ্ধে ৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের দুজন মগ পার্টি সদস্য বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। অপরজন মগ পার্টির গাইডার ছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার গাইন্দা ইউনিয়নে থানকুই পাড়ার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

গাইন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুচিংমং মারমা বলেন, ঘটনাটি এমন স্থানে ঘটেছে যে এলাকাটি রাঙামাটি বান্দরবান জেলার তিনটি ইউনিয়নের মাঝখানে। একেবারে সীমান্ত এলাকা।
রাঙামাটি জেলার রাজস্থলীর গাইন্দা ইউনিয়ন, বান্দরবান জেলার কুয়ালং ও রাজভিলা ইউনিয়নের মাঝে এ ঘটনা ঘটেছে। যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেটি পাহাড়ি পথ। এ পথটি দুই জেলাকে ভাগ করেছে। রাস্তার উত্তর পাশ রাঙামাটি জেলা দক্ষিণ পাশে বান্দরবান জেলা। এর আশ পাশে কোন জনবসতি নেই। সকালে গোলাগুলির খবর পেয়ে পাহাড়ে কাজ করতে যাওয়া লোকেরা কাজ ফেলে বাড়িতে চলে গেছে। এ ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্গম। একমাত্র সেনাবাহিনী ছাড়া অন্য কোন বাহিনীর সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়।

স্থানীয় সূত্র জানায় যেখানে বুন্দুকযুদ্ধ ঘটেছে সেসব এলাকার আশপাশ জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সমর্থিত এলাকা।

গেল সোমবার রাতে জেএসএস লোক খুজতে সে এলাকায় যায় মগ পার্টির সদস্যরা। মঙ্গলবার সকালে মগ পার্টির সদস্যরা টহল শেষে নিজেদের আস্তানায় ফিরছিল। ফিরার পথে পাহাড়ে লুকিয়ে অবস্থান করা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মগ পার্টি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত হয়।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম অং থোয়াই মার্মা (৪৫)। সে মগ পার্টির কোন সদস্য ছিল না। মগ পার্টির সদস্যরা তাকে বান্দরবানের রাজভিলার জামছড়ি থেকে রাস্তা দেখানোর জন্য ধরে নেয়।

এ হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও স্থানীয়রা ধারণা করছেন জেএসএস এবং মগ পার্টির মধ্যে এ সংঘাত হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

জেএসএস রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নগেন্দ্র চাকমা বলেন, কোন স্বশস্ত্র কার্যক্রমের সাথে জেএসএস জড়িত নয়। যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে জেএসএসের কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। মগ পার্টি সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়িদের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নিরীহ মানুষ খুন, অপহরণ, মুক্তিপন আদায়, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে। অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ মগ পার্টিকে হামলা করেছে না হয় মগ পার্টির আভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে।

এদিকে বিভিন্ন সময় মগ পার্টি হামলার শিকার হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোন বিবৃতি বা দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হয় না। সম্প্রতি বান্দরবানে চারজন মগ পার্টি সদস্য নিহত হবার ঘটনায়ও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নিহতদের পরিচয়ও জানা যায়নি। মঙ্গলবারের ঘটনায়ও নিহতদের ব্যাপারে মগ পার্টি পক্ষ থেকেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন বলেন যে এলাকায় ঘটনাটি হয়েছে বলা হচ্ছে এটি রাঙামাটি জেলার মধ্যে পড়েনি। এটি বান্দরবান জেলার মধ্যে পড়েছে।
বান্দরবান জেলার পুলিশ সুপার জেরিন আখতার বলেন, প্রথমে মনে হয়েছে যেখানে সংঘাত হয়েছে সেটি বান্দরবানের মধ্যে পড়েছে। খবর নিয়ে জানতে পেরেছি এলাকাটি রাঙামাটির মধ্যে পড়েছে। তাই বিষয়টি রাঙামাটি পুলিশ দেখছে।
রাঙামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এডমিন মাহমুদা বেগম বলেন এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় ঘটনাস্থলে এখনো পুলিশ পৌছাতে পারেনি। এ ঘটনায় হতাদের সংখ্যা কত তাও জানা যায়নি। আর্মিরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। তারা ফিরলে বিস্তারিত জানা যাবে। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত আর্মিরা ফিরেনি।

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

%d bloggers like this: