রাঙামাটির কোতয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে ড্রোনসহ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজে সনাক্ত হয়ে আটক হওয়া এক মহিলা চোরের স্বীকারোক্তিতে মিলেছে এসব মালামাল। জনৈক ইয়াবা ডিলারের কাছে মাত্র চারশো টাকা ও তিন পিস ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে এসব মালামাল বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে উদ্ধার হওয়া এসব মালামাল মালিকের কাছে ফেরত দিয়েছেন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম উদ্দীন।
গেল রবিবার (২৩ আগস্ট) রাত আটটার দিকে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে রাঙামাটি শহরের জেল মোড়ের নজরুলের ভাড়া বাসা থেকে এই মহিলা চোরকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
তবে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টার পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ওই মহিলা চোর চুরির ঘটনা সীকার করে বিভিন্ন তথ্য দেয়। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে সম্ভাব্য স্হানে অভিযান চালায় পুলিশ।
স্বীকারোক্তিতে মহিলা চোর জানায়, চুরি করা এসব মালামাল এসপি অফিসের পাশ দিয়ে যাওয়া রিজার্ভ বাজার মুখী নিচের রাস্তা এলাকার জনৈক ইয়াবা ডিলার শাহ পরানের হাতে তুলে দিয়েছে। নগদ চারশো টাকা ও তিন পিস ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে এসব মালামাল বিক্রি করে দিয়েছে সে।
বিষয়টি বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হয়ে ইয়াবা ডিলার শাহ পরানকে ধরতে রবিবার রাতে তার বাড়ি ও বিভিন্ন স্হানে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে মধরাতে এসব মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে গতকাল সোমবার রাতে উদ্ধার হওয়া এসব মালামাল মালিকের হাতে তুলে দেন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম উদ্দীন।
এরআগে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এই মহিলা চোর রাঙামাটি শহরের চম্পকনগরে চৌধুরী ভবনের নীচতলায় একটি বাসার তালা ভেঙে চুরি করে। মূলত ভবনে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ দেখেই এই মহিলা চোরকে দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়- বৃহস্পতিবার বিকাল ৪.৪১ মিনিট থেকে ৪.৫২ মিনিট পর্যন্ত মাত্র ১০ মিনিটে চুরির মিশন কমপ্লিট করে বেরিয়ে যায়। বাসা থেকে ডিজেআই ড্রোন, রাউটার, স্পিকার, ঘড়ি ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এসময় মহিলা চোরের কোলে মেয়ে বাচ্চা সহ পরনে বোরকা, নেকাব এবং পায়ে জুতো দেখা গেছে। এবিষয়ে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
সিসিটিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। দিনে দুপুরে তালা ভেঙে স্বল্প সময়ে দুঃসাহসিক চুরি এবং বাচ্চা কোলে নিয়ে এই মহিলা চোরের বিষয়ে নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। এরমধ্যে অনেক ভুক্তভোগী এই মহিলা চোরের বিভিন্ন ভবনে একাধিক চুরির সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম উদ্দীন বলেন- ‘চুরির অভিযোগটি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি। আটক মহিলা চোরকে আটক করে দ্রুত চুরি যাওয়া মালামাল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এই মহিলার স্বামী চুরির ২২টি মামলায় সম্প্রতি কোতয়ালী থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে আছে’।
##


















