চন্দনাইশে অধ্যক্ষ খাইরুল বশর চৌধুরী স্মৃতি মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর বৃত্তি, সনদ ও পুরস্কার বিতরণ এবং কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। বরকল মৌলভীবাজার সংলগ্ন মোস্তফা কনভেনশন হলে ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র প্রেসিডেন্ট, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডক্টর কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। সভাপতিত্ব করেন পরীক্ষা কমিটির উপদেষ্টা আবদুল মালেক বিন খায়ের হিরু। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন মেধাবৃত্তি কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষক সাঈদ ইবনে খায়ের।
সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন বরকল আবদুল হাই-আনোয়ারা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বরকল ইউনিয়ন বোর্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস শহীদ মছউদ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট জিএম শাহাদত হোসাইন মানিক।শুভেচ্ছা বক্তা ছিলেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকা অধ্যক্ষ তনয়া সুলতানা শিরিন বশর।
বিশেষ অতিথি ছিলেন এলডিপি- চন্দনাইশ উপজেলা শাখার সভাপতি ও বরকল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহের মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আকতার আলম, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জসিম হায়দার, মো. লিয়াকত আলী, মোসলেম খান, শামসুল আলম, বরকল আবদুল হাই-আনোয়ারা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল কবির চৌধুরী, বরকল শামসুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ফরহাদ হোসেন ও প্রবীন শিক্ষক আবু ইউসুফ চৌধুরী।
এতে সঞ্চালনা করেন কানাইমাদারী কাদেরিয়া দাখিল মাদরাসার সহ-সুপার মাওলানা জহুরুল ইসলাম আলকাদেরী ও অধ্যক্ষ খাইরুল চৌধুরী স্মৃতি মেধাবৃত্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মনিরুল আলম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাইদুল মুরসালিন মাসুদ।
উপস্থিত ছিলেন মো. জাফরউল্লাহ খান চৌধুরী, মেম্বার আনিসুর রহমান চৌধুরী, আমিনুল হক রাশেদ, আবদুল মুবিন মেম্বার, মুহাম্মদ ওয়াসিম উদ্দীন, মুহাম্মদ কাশেম, মুহাম্মদ আবুল কালাম, মাস্টার মাহফুজুর রহমান, মাস্টার টিপু সুলতান, মুজিবুর রহমান, মুহাম্মদ শাহজাহান হামিদ, মাসুদুর রহমান, শিল্পী চক্রবর্তী, সৈকত বৈদ্য, আবদুর রহমান, আরিফুল ইসলাম সুমন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রধান অতিথি কর্ণেল অলি বলেন- আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের হাল ধরবে। শুধু পরীক্ষার ফলে কৃতিত্ব অর্জন নয়। সন্তানরা প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করছে কিনা- সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে অভিভাবকদের। কৃতী-মেধাবী শিক্ষার্থীদের আলোয় আগামী দিনে সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হবে। তিনি বলেন- অধ্যক্ষ খাইরুল বশর চৌধুরী আজীবন দেশপ্রেমিক সৎ যোগ্য দক্ষ মানবিক মানুষ গড়ার মিশনে নিবেদিত ছিলেন।
সংবর্ধিত অতিথি জিএম শাহাদত হোসাইন মানিক বলেন- গাউসে জামান আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ:) প্রচারিত শরিয়ত তরিকতের মিশনকে বলিষ্ঠভাবে এগিয়ে নিয়েছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ খাইরুল বশর চৌধুরী। এই মহান শিক্ষাবিদের জীবনাদর্শ আগামী প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি শোষণহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ধারণ করে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। মেধাবী শিক্ষার্থী ও যুবসমাজই পারে আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দিয়ে প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে।
শেষে বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় একশত কৃতী-মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তি, সনদ, ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা। এছাড়াও পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।


















